ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অ্যালার্ট-২’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের দেয়া ৪ নম্বর সংকেতের প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণভাবে এই সংকেত জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি লাইটার জাহাজগুলোকে সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকার দিকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ মে) বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বন্দর ভবনে অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব জাহাজগুলোকে নিরাপদে থেকে ডাবল মুরিং করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক চালু রাখা যাতে ‘অ্যালার্ট -৩’ জারির সাথে সাথে জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো বহির্নোঙরে সরিয়ে নেওয়া যায়।
জানা গেছে, সাইক্লোন ডিজেস্টার প্রিপার্ডনেস অ্যান্ড পোর্ট সাইক্লোন রিহ্যাবিলেটেশন প্ল্যান ১৯৯২ অনুযায়ী বন্দর চেয়ারম্যান নিজস্ব ক্ষমতায় অ্যালার্ট-২ জারি করতে পারেন। এছাড়া যখন আবহাওয়া অফিস ৫ নম্বর সতর্ক সংকেত দিবে তখন অ্যালার্ট-৩ জারি করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সূত্র জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর সংকেত জারি করলে বন্দর প্রথম পর্যায়ের সতর্কতা বা ‘অ্যালার্ট-১’ জারি করে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৪ নম্বর সংকেত জারি করলে বন্দর অ্যালার্ট-২ জারি করে। বিপৎসংকেত ৫,৬ ও ৭ নম্বরের জন্য বন্দরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়। মহাবিপদ সংকেত ৮,৯ ও ১০ হলে বন্দরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বা অ্যালার্ট-৪ জারি করা হয়। সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি হলে বন্দর জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শুক্রবার (১২ মে) দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের ১১ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রে বাতাসে সর্বোচ্চ গতিবেগ উঠে যাচ্ছে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা আরো বাড়বে। তাই সকল সমুদ্রবন্দরে দুই নম্বর সংকেত নামিয়ে তোলা হয়েছে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত।
আজ দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়ার অর্থ হলো, এখন ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশমুখী। এখন এর মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।