ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপকূল অতিক্রম করবে দুপুরে। এক্ষেত্র ১২ টা থেকে পরবর্তী তিনঘণ্টা চলবে ভয়াবহ তাণ্ডব। তবে সেটি মিয়ানমারের দিকেই বেশি হবে। মোখার প্রভাব রাত থেকেই সেন্টমার্টিনে পড়তে শুরু করেছে। সেন্টমার্টিনের ঘাট এলাকায় বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে, সঙ্গে রয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্কে রাত কাটিয়ে ভোর হতেই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকে বাইরে বের হয়েছে। যদিও স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা কয়েক ফুট বেড়েছে।
জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঠেকাতে দ্বীপের প্রায় ১১ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৩ হাজার মানুষকে টেকনাফে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে ৩টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ দ্বীপের ৩৭টি হোটেল রিসোর্ট-কটেজ খালি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় সিপিপির ৮ হাজার ৬০০ জন এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ২ হাজার ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। সেন্টমার্টিনে নেভি, কোস্ট গার্ড, পুলিশসহ অন্যদের মিলিয়ে ৩৭টি সরকারি স্থাপনা রয়েছে। তাই সেখানে সরকারি স্থাপনাগুলো সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য ২০ লাখ নগদ টাকা রাখা হয়েছে; যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৫.৯০ মেট্রিক টন চাল, ৩.৫ মেট্রিক টন টোস্ট বিস্কুট, ৩.৪ মেট্রিক টন শুকনা কেক, ১৯৪ বান্ডিল ঢেউটিন, ২০ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন ও ৪০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র।
জেলায় যে ৫৭৬টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেগুলোতে ৫ লাখ ৫৯৯০ জন লোক রাখা যাবে। মেডিকেল দল, কোস্ট গার্ড, নৌ-বাহিনী, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক দল, স্কাউট দল, আনসার বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্হাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসবাসরত পর্যটন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন শোভ জানান, রোববার সকাল ১০টার পর থেকে প্রচণ্ড বেগে দমকা হাওয়া বইয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকতার কামাল বলেন, “প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। সাগর এখন খুবই উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজন নিরাপদে আছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাত থেকে লোকজনকে নিরাপদ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উঁচু ভবনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত আছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, ঝড়ের কেন্দ্রে ব্যস ৭৫ কিলোমিটার। আর এটি যাচ্ছে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ দিয়ে রাখাইন রাজ্যে। যেহেতু কেন্দ্রের ব্যস ৭৫ কিলোমিটার, সেহেতু ঝড়ের কেন্দ্রের কিছু অংশ সেন্টমার্টিনের ওপর দিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সকাল আমরা সেখানে বাতাসের গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার পেয়েছি। এটা বিকেল ৩টা দিকে হয়তো ১০০ কিলোমিটারের বেশি হয়ে যেতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৫ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১৫ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৮ (আট) নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।