রোববার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গণভবনে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটি সবার জন্য। ধর্মের কথা সবাই মেনে চললে আর সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি হয় না। যিশুখ্রিষ্টের জন্মস্থানে আজ রক্ত ঝরছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে সুযোগ পাচ্ছি, সেখানেই এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্ম যেন ব্যবহার না হয়; ধর্মীয় সংঘাত আমরা চাই না। সবাই উৎসবে মেতে উঠেছি, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি–এটাই চাওয়া আমাদের।
আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড আর যুদ্ধ না থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যিশুখ্রিষ্ট মানবতার কথাই বলে গেছেন; অসাম্প্রদায়িক একটা সমাজ চাই আমরা। এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হবে। সেভাবেই আমরা দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। মাঝে অনেক ঝামেলা-বাধাবিপত্তি এলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ ‘কিন্তু দেশের মধ্যেই কিছু মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যার জন্য। রেলে মানুষ মারা- কোন ধরনের রাজনীতি? রাজনীতি হবে আদর্শ নিয়ে, নীতি নিয়ে, সেখানে আগুন নিয়ে খেলা কেন? রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মানুষ হত্যা করে কী অর্জন হচ্ছে, সেটাই আমার প্রশ্ন,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে যেতে হবে তাদের কল্যাণের জন্য। মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে ফায়দা লুটবে–এটা বাংলার মাটিতে চলবে না। এমন ঘটনার হুকুমদাতাদেরও ধিক্কার জানাই। এমন অন্যায় কোনো ধর্মই গ্রহণ করে না।
ছবি: সময় টিভি থেকে নেওয়া।