রাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা নিতে দেরি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে থানার ওসির বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার চৈড়া শিক্ষা দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২২ মার্চ আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে তাদের মেয়ে কেয়াকে একটি পাচার চক্র উল্লাপাড়া থানাধীন উধুনিয়া ইউনিয়ন এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তারা দ্রুত উল্লাপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের অভিযোগ, জিডি করার পর তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাদের থানা থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আবার থানায় গিয়ে মামলার বিষয়ে কথা বললেও ওসি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পরে এসআই সেলিম তাদের ঢাকায় গিয়ে মেয়েকে খোঁজার পরামর্শ দেন। পরিবারটি ২৬ মার্চ রাতে ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ২৯ মার্চ পর্যন্ত মেয়ের কোনো সন্ধান পায়নি।
এরপর পুনরায় থানায় গিয়ে এসআই সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও কোনো সুনির্দিষ্ট সহায়তা বা পরামর্শ পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে ৩১ মার্চ সার্কেল এসপির সঙ্গে কথা বললে তিনি এসআই সেলিমকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
কিন্তু এরপরও মামলা নিতে টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ১ এপ্রিল থানায় গেলে তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় আসতে বলে দেরি করান এবং রাত ১১টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে’ বলে আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা গ্রহণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।