উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা মণিপুর ইস্যু নিয়ে

সোমবার (৩১ জুলাই) মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা।  বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

এদিন মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর নিরব থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, বিদেশ যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।  বিদেশে গিয়ে উপহার নিতে পারেন।  কিন্তু একবার মণিপুর যেতে পারেন না? চোরের মায়ের বড় গলা। ‘বেটি বাঁচাও’ এখন হয়ে গেছে ‘বেটি জ্বালাও’। তারা আবার পশ্চিমবঙ্গকে অপমান করছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে এ বিষয়ে তীব্র তর্কে জড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অধিবেশন চলাকালীন মমতা ব্যানার্জির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, মণিপুরের ঘটনা সেই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য রাজ্য নিয়ে আলোচনা করার অধিকার এই রাজ্যের নেই। এছাড়া মণিপুরের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই সে বিষয়ে এ রাজ্যের আলোচনা করার অধিকার নেই।

শুভেন্দুর বক্তব্যের পরপরই উঠে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, মণিপুর এখন দেশের জ্বলন্ত ইস্যু। মমতার এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু বলেন, পশ্চিমবঙ্গেও রোজ এমন ঘটনা ঘটছে। তার জ্বলন্ত উদাহরণ মালদহ।

বিরোধী দলনেতা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি নিজেই যেখানে বলেন যে এটা বিচারাধীন মামলা, আলোচনা করা যাবে না। আর বিষয়টি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে, মণিপুরের বিষয়ে কেন আলোচনা হবে। প্রয়োজন হলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাবো।

বিধানসভার স্পিকার ক্ষিপ্ত হয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে বলেন, আপনি স্পিকারকে হুমকি দিতে পারেন না। আরেক দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন বলেন, ডোন্ট টক রাবিশ।

এরপরই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে শুরু হয় শোরগোল। বিজেপির বিধায়করা নিন্দাপ্রস্তাব মুলতবি করে স্লোগান দিতে দিতে বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে নিন্দাপ্রস্তাব পাস করানো হয়।

বিধানসভার বাইরে এসে বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রথা মেনে আমরা ভোটাভুটি চেয়েছিলাম। কিন্তু স্পিকার আমাদের দাবি না মেনে ধ্বনি ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা বেরিয়ে এসেছি।