সরকারি নির্দেশনা মেনে অবশেষে আজ মঙ্গলবার (১ আগস্ট) থেকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান। বাজারে প্যাকেট ও বোতলজাত অবস্থায় কেনাবেচা হবে এই ভোজ্যতেল। আর সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে মাঠে থাকবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে ব্যবসায়ীরা এখনও বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে হলেও আরেকটু সময় দেয়া উচিত।
গত ২৬ জুলাই এক কর্মশালায় এ বিষয়ে অভিযানের কথা জানান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট থেকে প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হবে। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা যাবে না। আমরা এটি বিক্রি বন্ধে মাঠে নামব। সারাদেশে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে ভোক্তা অধিকারকে সহযোগিতা করবে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন।
দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত সরিষা, তিল ও সূর্যমুখী থেকে ভোজ্যতেলের যোগান আসে মাত্র তিন লাখ টন। অর্থাৎ মোট চাহিদার মাত্র ১২ ভাগ। বাকি ৮৮ শতাংশের যোগান দিতে সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সয়াবিন তেলের ৬০ শতাংশ এবং পাম অয়েলের ৯৭ শতাংশই খোলা অবস্থায় বিক্রি হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে ,দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া মোট সয়াবিন তেলের অর্ধেক বিক্রি হয় বোতলজাত অবস্থায়। বাকি অর্ধেক খোলাভাবে। তবে ওজনে কম দেয়া, ভেজাল বন্ধ ও পুষ্টির মান বজায় রাখতে খোলা সয়াবিন বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে কনজুমারস এসােসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধ করলে যারা ২০০-২৫০ গ্রাম করে কিনে, তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই বাজারে ২৫০-৫০০ গ্রামের প্যাকেট সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।
এর আগে, গত বছরের ২০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর বাজারে আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা যাবে না। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযানে নামছে।
এমএইচএফ