আজ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করবেন ৩ শতাধিক চরমপন্থী

 

সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতিতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করছেন ৩ শতাধিক সর্বহারা ও চরমপন্থী দলের সদস্যরা। র‌্যাব-১২’র সদর দপ্তরে সিরাজগঞ্জসহ উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের তিন শতাধিক চরমপন্থী সদস্যরা আত্মসমর্পণ করছেন।

আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন তারা।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় র‌্যাব-১২’র সদর দপ্তরে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশ মহা-পরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার আবুল হাশেম সবুজ বলেন, চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া অপরাধের জীবন থেকে চরমপন্থী সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে র‌্যাব ২০২০ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

চরমপন্থী দলের নেতা ও সদস্যদের আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে গরুর খামার, পোলট্রি ফার্ম, মাছ চাষ, চায়ের দোকান, ভ্যান-রিকশা ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। এই কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রবিবার র‌্যাব অফিসে ৩২৩ জন চরমপন্থী অস্ত্রসহ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আত্মসমর্পণ করবেন। এদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল।

আত্মসমর্পণের ৩২৩ সদস্যকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে এলএম লাল পতাকা বাহিনীর ২৯৪ জন, জনযুদ্ধর ৮ জন এবং সর্বহারার ২১ জন সদস্য রয়েছে।

চরমপন্থি নেতা মোহাম্মদ সাধু বলেন, র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র জমাদানের উদ্যোগে আমরা রাজি হয়েছি। পথভ্রষ্ট হয়ে এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেছি। এখন আমরা সামাজিক স্বীকৃতি চাই। আমাদের পুনর্বাসন করতে আশ্বস্ত করা হয়েছে। শ্রমিকের কাজ করে ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল। এক সময় চরমপন্থিদের অভয়ারণ্য ছিল এই ৭ জেলা। এসব এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক একটি জনপদ ছিল আতঙ্কের নাম। প্রতিদিনই চাঁদাবাজি, গুম, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটতো। মার্কস-লেলিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল এই জনপদে।