আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি

# শহরাঞ্চলে মাঠে নেমেছে র‌্যাব-বিজিবি, উপকূলে কোস্টগার্ড
# ভোট কেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা
# থার্টিফার্স্ট নাইটে কঠোর নিরাপত্তা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পাঁচটি বাহিনীর মোট সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩২২ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এসব সদস্যকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ভোটারদের যাতায়াতের পথে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া থার্টি ফার্স্ট নাইটের দিন সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না। কিংবা বাঁশি বাজানো, পটকা ফোটানো বা আতসবাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রাস্তায় পুলিশের চেক পোস্ট বসানো হবে। কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা বিভিন্ন মেয়াদে তারা মাঠে থাকবেন। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অবশ্য এ সংখ্যার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত নেই। সশস্ত্র বাহিনীকে কোন পদ্ধতিতে কীভাবে কতদিনের জন্য মাঠে নামানো হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, নির্বাচনে ৫ লাখ ১৬ হাজার আনসার, এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন পুলিশ ও র‌্যাব, দুই হাজার ৩৫৫ জন কোস্টগার্ড এবং ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন বিজিবি সদস্য থাকবেন।
ভোটকেন্দ্রে পুলিশ বাড়ছে: এবার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সদস্য সংখ্যা একজন করে বাড়ানো হবে। গত নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে অবস্থিত সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশের নেতৃত্বে ১৩-১৪ জন আনসার ও গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আরও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন পুলিশ এবং ১৩-১৪ জন আনসার ও গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অন্তত দুজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। আনসার এবং গ্রাম পুলিশ আগের মতোই রাখা হতে পারে। একইভাবে মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা তিনজন থেকে বাড়িয়ে চারজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ ৫ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। দুর্গম, পার্বত্য ও দীপাঞ্চল এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রেও পুলিশের সংখ্যা বাড়বে। এবার নির্বাচনে গতবারের মতোই ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ৫ দিন এবং আনসার সদস্যদের ৬ দিনের জন্য মোতায়েন করা হবে।
নিরাপত্তায় র‌্যাব: র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, নির্বাচনে সমগ্র দেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী র‌্যাব ফোর্সেস গতকাল শুক্রবার থেকে ১০ জানুয়ারি তারিখ পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সব নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে।
র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া ভোট কেন্দ্র ও ভোট গণনার ক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি আসনে কমপক্ষে ২টি টহল দল মোতায়েন ও প্রতিটি ব্যাটালিয়নে ২টি টহল স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে। র‌্যাব সদর দপ্তরে ১৫টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে এবং দেশব্যাপী ২৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়াও অন্যান্য মোতায়েনের জন্য ৫০টি টহল দল প্রস্তুতসহ দেশব্যাপী সর্বমোট ৭০০টির অধিক টহল দল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং নিজস্ব সুইপিং ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হবে। অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ/গুরুত্বপূর্ণ আসন বিবেচনায় মোতায়েনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাব সদর দপ্তরের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। র‌্যাব সদর দপ্তরের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ৭টি জোনে বিভক্ত হয়ে মোতায়েনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। র‌্যাব ডগ স্কোয়াডের ১০টি দল সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রে ঝুঁকিপূর্ণ আসন সমূহে অধিক টহল নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি মোতায়েন: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গতকাল শুক্রবার রাজধানীসহ সারা দেশে ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশের নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
গত ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৯ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এদিন থেকে খুব সম্ভবত আমি যতটুকু জানি… বিজিবি মাঠে চলে আসবে। বিজিবির পরপরই আর্মি চলে আসবে।
উপকূলে মোতায়েন হলো কোস্টগার্ড: শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের। কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে উপকূলীয় ৪৩টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মোতায়ন করা হয়েছে।
খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ কোস্টগার্ড নির্বাচন-পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।