পরিবর্তনের রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকা-১০ আসনে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন গণমুক্তিজোটের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ঢাকা-১০ এর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা আহসানুল কবীর ফেরদৌসের হাতে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে অন্তত দেড় শতাধিক আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন গণমুক্তিজোটের সদস্যরা। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছড়ি মার্কায় নির্বাচন করবে এই জোট।
এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। দেশবাসীর আশা ছিল গণতন্ত্র ও আইনের সুশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হবে। কিন্তু বিগত ৫১ বছরেও সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আজও দেখা যায় রাস্তায় ঘরহীন বিপুল সংখ্যক বস্তিবাসী ও নিরক্ষর মানুষ। এখন পর্যন্ত যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা শুধু দল ও নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছে। দেশে অনেক ক্ষেত্রে অনেক ধরনের উন্নয়ন হলেও ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, সন্ত্রাস, লুটপাট, মতপ্রকাশে বাধা, বেকারত্ব, বৈষম্য, উচ্চ দ্রব্যমূল্য প্রভৃতি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাও আজ ভেঙে পড়েছে। এসব কারণে মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিসহ। এ অবস্থার পরিবর্তনে এমন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকলে সাচ্ছন্দ্যে জীবন জীবিকা পরিচালনা করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি দেশের এ অবস্থার জন্য সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায় রয়েছে। এক্ষেত্রে কেউই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। দলে গণতন্ত্র চর্চার ঘাটতিতে সুস্থ ধারার রাজনীতিরও বিকাশ হয়নি। সরকার ও বিরোধী দল শুধু দোষ ত্রুটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবও আজ প্রধান জাতীয় সমস্যা। এ অবস্থায় জনগণের সার্বিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষে দায়িত্বশীল রাজনীতি ও গণতন্ত্র চর্চার প্রতি অঙ্গীকারসহ আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতি জনগণের সংকট নিরসনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো বলেই আমার বিশ^াস। জনগণের ভেতর থেকে সঠিক নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
জোট গঠনের আগে শতাধিক রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সমর্থন করুন, সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের একটি দেশপ্রেমিক রাজিৈনক দল উপহার দেবো। তিনি বলেন, নির্বাচনে বড় সংশয় হলো পোলিং এজেন্টরা। তাদেরকে নির্বাচন বুথে সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া হয়না বলেই নির্বাচন নিয়ে মানুষদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সরকার দলীয় কর্মীরা অন্য প্রার্থীদের সমর্থক ও ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানোর বহু অভিযোগ আমরা আগে দেখেছি। একই সাথে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কাও করছি আমরা। সুতরাং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, এবারের নির্বাচন পরিচালনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো যেনো বিবেচনায় রাখা হয়। সরকার দলীয় প্রার্থীর বাইরে যারা তাদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে ভালো হয় বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।
২০২০ উপ নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়ক এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি হলো ঢাকা-১০ । এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৮৩নং আসন। ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-কলাবাগান-হাজারীবাগ থানার সমন্বয়ে গঠিত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নং ওয়ার্ড তথা কলাবাগান, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট থানা নিয়ে এই আসন গঠিত।
ঢাকা-১০ আসনে মোট ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের ৭৩৪টি ভোটকক্ষ। মোট ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৭ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০৪ জন।