# নিয়োগে দ্বৈত নাগরিক মাহবুবের তোরজোর
# বাছাই থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞরা
# নিয়ম-নীতি মেনেই নিয়োগ চুড়ান্ত করা হবে
– এরাদুল হক, উপসচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ
# যোগ্যতা বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া হবে
– মো: হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ
রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্র বলছে, এই নিয়োগ কমিটিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ১৩ জন সদস্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়। ডিপিডিসি’র বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পর আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই শেষে ২২ জানুয়ারী এমডি পদে ১৬ জন এবং ২৪ জানুয়ারী নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে ১১ জন নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছেন। এমডি পদে ১৬ জন পরীক্ষা দিলে বাছাইয়ে টিকে আছে ৩জন। আর নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে ১৫জন আবেদন করেন। ভাইভা কার্ড পান ১১ জন। আর পরীক্ষা দেন ৮ জন। এরইমধ্যে (১) ডিপিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক আইসিটি অ্যান্ড প্রকিওরমেন্ট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ নোমান। তার কর্মক্ষেত্রে সব সময় দক্ষতা ও সচ্ছতা হচ্ছে একমাত্র পুজিঁ। (২) ডিপিডিসি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, তিনি ডিপিডিসি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে কাজ করেছেন। ডিপিডিসিতে কর্মরত থাকাকালে প্রকৌশলী মাহবুবের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। ভুতুড়ে বিলসহ নানা কারণে ছিলেন আলোচনা সমালোচনার তুঙ্গে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকিউরমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তিনিই দেখতেন।
অভিযোগ আছে, ওই সময় মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি টেন্ডার বাণিজ্যসহ সব অনিয়ম-দুর্নীতি করিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন অর্থ সম্পদের পাহাড়। নিয়েছেন কানাডার নাগরিকত্ব। দ্বৈত নাগরিক হয়েও এবার তিনি ডিপিডিসির এমডি পদ ভাগিয়ে নিতে টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছেন। কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, মাহবুব নিজেই বিভিন্ন মাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছে বড় কর্তাকে ম্যানেজ করে ফেলেছি, আমার নিয়োগ ঠেকায় কে? দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরেও কিভাবে নিয়োগ পাচ্ছেন? এ নিয়ে ডিপিডিসির প্রকৌশলীদের মধ্যে বইছে সমালোচনার ঝড়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ডিপিডিসির ইতিহাসে একই পদে দ্বিতীয়বার দ্বায়িত্ব পালন করে মাহবুবুর রহমান নজির সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, দুই মেয়াদ মিলিয়ে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে ছিলেন। এতে করে সংস্থায় মাহবুবের আধিপত্য বেড়েছে। তিনি ২০১৯ সালে ডিপিডিসিতে কর্মরত থাকাকালে বছরখানেক কানাডায় অবস্থান করেও পুনরায় যোগদান করে নির্দ্বিধায় চাকরিতে বহাল হন। অভিযোগে জানা গেছে, মাহবুবুর রহমান একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডার নাগরিক। দ্বৈত নাগরিক হয়েও সরকারি চাকরিতে থাকা বাংলাদেশের আইন পরিপন্থি। তার কানাডার পাসপোর্ট নম্বর অএ-০৬২২০৮। শুধু মাহবুবুর রহমান নন, তার স্ত্রী-সন্তান সবাই কানাডার নাগরিক। পরিবারের সদস্যরা কানাডায় বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। ২০১৯ সালের প্রায় পুরোটাই তিনি কানাডায় ভোগ বিলাসী জীবনে মত্ত ছিলেন। সন্তানেরা সেখানের শিক্ষালয়ে পড়াশোনা করেন। আইনে বলা আছে, চাকরিতে বহাল থাকতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবেন না। (৩) ডিপিডিসি’র সাবেক নির্বাহী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জোয়ারদার, তিনি চাকরি জীবন দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেছেন। সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ৩জন চুড়ান্ত ভাবে বাছাই হয়েছে। তারা হলেন, (১)পিজিসিবি’র কর্মকর্তা প্রকৌশলী কিউএম শফিকুল ইসলাম, (২) বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির কর্মকর্তা প্রকৌশলী সৈয়দ আকরাম উল্লাহ, (৩) ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম। এই ৩ জনের যে সব যোগ্যতা থাকা দরকার তা তাদের মধ্যে নেই। তারা চাকরি জীবনে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছেন। একজন নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) এর কাজ হচ্ছে ডিপিডিসির ৩৬ জোনে বিদ্যুতের যে কোনো সমস্যা দেখভাল করা। নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ, গ্রহকের নানা সমস্যা সমাধান করতে হবে। সেই বিষয় কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা নেই বাছাইকৃত ৩ প্রার্থীর। আর এই ডিপিডিসিতে দুই প্রধান প্রকৌশলীসহ ৩জনকে বাছাই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতার ঝুড়ি ভারী। তবুও তারা বড় কর্তার কৌশলের কাছে হেড়ে গেলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য জানা যায়। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব, ডিপিডিসি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এরাদুল হক বলেন, নিয়ম-নীতি মেনেই নিয়োগ চুড়ান্ত করা হবে। নিয়ম অনুসরণ করেই প্রক্রিয়া চলছে। চুড়ান্ত হলেই জানতে পারবেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব, ডিপিডিসির নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: হাবিবুর রহমান বলেন, দ্বৈত নাগরিকের নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ আছে কিনা তা আইন মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি। তাছাড়া এখনো নিয়োগ চুড়ান্ত হয়নি। তবে একটু বলতে পারি মাহবুব চুড়ান্ত তালিকায় থাকছে না। এটাই ফাইনাল কথা। যোগ্যতা বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া হবে।