যেমন ছিল আওয়ামী লীগের সমাবেশস্থল

সকাল ১১টা। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ শুরু হতে তখনও ঢের বাকি। সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা বেলা ২টায়। সমাবেশ স্থলের মঞ্চ রেডি। মঞ্চের মাইক থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে- মিছিল নিয়ে আসা প্রতিটি ব্যানারের শিরোনাম, একই সাথে জয়বাংলা স্লোগান। তখনই জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য অবস্থা। ভিড় ঠেলে এগুতেই মঞ্চে দেখা যায় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে। এসময় বেশ কয়েকটি মিছিল এসে পৌঁছে সমাবেশস্থলে।
কথা হয় ছাত্রলীগের পতাকাবাহী তরুণ মুশফিকের সাথে। শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ নিয়ে ছাত্রলীগের নিজস্ব কোন অবস্থান আছে কিনা প্রশ্নে মুশফিক জানায়, দেশ ও দেশের মাটি রক্ষায় প্রস্তুত ছাত্রলীগ। এটাই ছাত্রলীগের ইতিহাস। আমরা যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত।
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশ মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা দিয়ে সাজানো হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়। লোকসংগীতশিল্পী প্রীতি সরকার জয় বাংলা গান দিয়ে শুরু করেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন এমপি মেহের আফরোজ চুমকি। বিএনপি মহাসমাবেশের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালন করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা শান্তি সমাবেশ করছি। আর তারা নির্বাচন বানচাল করতে এসব করছে। তাদের মোকাবিলা করা হবে। আমরা পাড়া-মহল্লায় দূর্গ গড়ে তুলে হরতাল প্রতিহত করবো।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এই কর্মসূচী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করা হবে। সেদিন মতিঝিলের আরামবাগে সমাবেশ করা হবে। সেই সমাবেশও সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে। পুলিশের ওপর হামলা করেছে। পুলিশ হাসপাতালে আগুন দিয়েছে। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীও আহত হয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতে তারা এসব করছে। তাদের মোকাবিলা করা হবে।
এসময় স্বর্ণ গলিতে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হয়। শোনা যায় ফাঁকা গুলির আওয়াজ। একটু সতর্ক হতেই জানা যায়, আজাদ প্রোডাকসের দিক থেকে পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছোঁড়া হয়েছে, বিপরীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে ফাঁকা বুলেট ছুঁড়েছে পুলিশ। গুলির শব্দে সমাবেশ স্থলে কিছুটা হুড়োহুড়ি শুরু হলে মঞ্চ থেকে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। এ সময় আগত ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বিএনপি-জামায়াত আমাদের আঘাত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা রাজপথে নেমেছে।
এসময় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক শামীম বলেন, যারা নির্বাচন আসলেই ষড়যন্ত্র করে, তারা আবার দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে উঠে-পড়ে লেগেছেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান জানান, নির্বাচন ভন্ডুল করার নামে নানান কর্মসূচী দিচ্ছেন দেশবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ওরা চায় না দেশের উন্নয়ন হোক। এর আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস। সুতরাং ইতিহাসকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র যারাই করবে তারাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ এর এমপি শামীম ওসমান। তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সজাগ আছি, সচেতন আছি। জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ মঞ্চে উঠলেই সকলেই সমস্বরে হাততালি দিয়ে ওঠেন। তিনি সকালের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে হাসিমুখে বলেন, আমি আমার গানের মধ্য দিয়ে আজকের বক্তব্য উপস্থাপন করবো। বলেই খালি গলায় শুরু করেন গান, ওরে ভাই ছিল নৌকা, আছে নৌকা, থাকবে নৌকা বাংলাদেশে।
সমাবেশের শেষ দিকে নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই দুই দলের সমাবেশ যাতে শেষ হয় সেজন্য পুলিশ কাজ করছে। সমাবেশে মাঠে আছেন বাহিনীর ১৩ হাজার সদস্য। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্মীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তাদের দুই হাজার সদস্য মাঠে রয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার ওয়ার্ল্ডেও কাজ করছেন র‌্যাব সদস্যরা। এছাড়াও মাঠে চোখে পড়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), এনএসআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও। সমাবেশ স্থলের চারপাশ কয়েক দফা টহল দিয়েছে বিজিবি’র একাধিক পিআপ ভ্যান, এসব ভ্যানে অস্ত্রসজ্জিত ছিলো বিজিবি সদস্যরা।