দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও লোডশেডিংয়ে মানুষ কষ্টে আছে। এজন্য মূল্যস্ফীতি আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। দেশের নিত্যপণ্যের বাজার বেশ কিছু দিন ধরেই অস্থির। যা নাজেহাল করে রেখেছে জনসাধারণকে। বাজারে দ্রব্যমূল্য এত বেশি কেন? এর নেপথ্যের কারণ ক্ষতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করতেই হবে। প্রথম উদ্দেশ্য আর যাতে না বাড়ে। এনাফ, নো মোর। বাজারে স্টক বাড়াতে হবে। ইমপোর্ট অথবা ইন্টারনাল প্রোডাকশন (অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী বিভিন্ন পয়েন্টে নিত্যপণ্যের স্টক বাড়াতে হবে। টিসিবিকে শক্তিশালী স্টক করতে হবে। শুধু ঢাকায় স্টক করলে হবে না। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় সংবেদনশীল পণ্যের স্টক বাড়াতে হবে। বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ যা আছে সব কিছুর স্টক বাড়াতে হবে। এসব কৌশল নিতে হবে। মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে গবেষণা করে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

মঙ্গলবার ( ৬ জুন ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

সভাপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনগুলো তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ট্রিগারে হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। দাম এদিক সেদিক হলেই হস্তক্ষেপ করতে হবে। এসময় দ্রব্যমূল্য বেশি থাকার কারণ ক্ষতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। সময়মতো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দিলে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৯০ টাকা হতো না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদেশি ঋণের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ে কর্মকর্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

ডলারের ওপর চাপ সামাল দিতে প্রবাসী আয়ে নগদ প্রণোদনা হার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, দেশের অর্থ বাইরে গিয়ে আবার রেমিট্যান্স আকারে দেশে আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন।

প্রসঙ্গত, একনেকে প্রায় ১১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৯১ লাখ টাকার ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৩ হাজার ৮৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।