আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে এ সরকার গঠন করার বিধান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। ইতিমধ্যে তিনি বলেছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী করা হবে। মাঠের বিরোধীদল বিএনপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় নির্বাচনকালীন সরকারের তাদের কোন প্রতিনিধি থাকবে না।
রোববার (৪ জুন) ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করবেন, তখন ছোট সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন।
জানা গেছে, ১০ থেকে ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভা রুটিন কাজ করবে। সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বাইরে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এদিকে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পর আইন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ওয়েস্টমিনিস্টার স্টাইল পার্লামেন্টারি সিস্টেম অব গভর্নমেন্টে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়। সেই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করেন, তিনি একটি ছোট সরকার গঠন করতে চান বা নির্বাচনকালীন সরকার করতে চান, তখন তিনি তা করবেন। আমার মনে হয় এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে কারা কারা থাকতে পারেন, সে ব্যাপারে একটি রূপরেখা তিনি দিয়েই দিয়েছেন।’
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করুক বা না করুক অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়ম বা হস্তক্ষেপ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে আসছেন।
এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে বারবার দলের নেতা-কর্মী ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নির্বাচনকালীন ছোট পরিধির সরকারের একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে একাধিক দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে রোববার (৪ জুন) নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ তাঁতী দলের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা নয়, প্রধানমন্ত্রীর মাথাব্যথা নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেন, ’শেখ হাসিনা জনগণকে শত্রæ মনে করেন বলেই সুষ্ঠু নির্বাচন দেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে দেন না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে। আর জনগণ তাকে ভোট দেবে না এটা তিনি জানেন বলেই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসতে দেন না।’
১৪ দলের শরীক জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ বর্তমানকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন চাইবেন তিনি তখন নির্বাচনকলীন সরকার গঠন করবেন। সংবিধানে কোন কিছু উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার ছিল সেই সরকারের নেতৃত্বেই নির্বাচন হয়েছে।
১৪ দলের আরেক শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা যখন আইনমন্ত্রী বলেছেন তিনিই সব চেয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে আমরা নির্বাচনে আছি। ১৪ দল এক সাথে নির্বাচন করবো।
১৪ দলের শরীক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ইচ্ছা তিনি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে পারবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেওয়ার সরকারের ঘোষণাটিও প্রশংসিত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকার সীমিত পরিসরে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈশ্বিক নিয়ম। কিন্তু অসাংবিধানিক তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে বিরোধীরা বাংলাদেশকে বিতর্কিত করছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।