ভারতের ওড়িশার বালাসোরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন তাদের পাশে রয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘এটা বেদনাদায়ক ঘটনা। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এটা গুরুতর ঘটনা। এই দুর্ঘটনার প্রত্যেকটি দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’
শনিবার সন্ধ্যার দিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে বালাসোর জেলার বাহাঙ্গাবাজার স্টেশনের দুর্ঘটনাস্থলের কাছে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বালাসোর জেলা হাসপাতালে যান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকেও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি আহতদের ও তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বালাসোরের বাহাঙ্গাবাজার স্টেশনের কাছের তিন ট্রেনের দুর্ঘটনায় ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন। ভারতের গত ২০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৮০৩ জন।
সংকেতের সমস্যায় ট্রেন দুর্ঘটনা:
এদিকে, ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসাবে সংকেতের বিভ্রান্তিকে চিহ্নিত করেছে দেশটির রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্তকারী দল।
প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা থেকে চেন্নাইগামী করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভুলবশত বালাসোরের বাহাঙ্গাবাজার স্টেশনের লুপ লাইনে (বাড়তি লাইনে) প্রবেশ করেছিল বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। লুপ লাইনের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনে আঘাত হানে সেটি।
এরমাঝেই তৎসংলগ্ন লাইনে আসে বেঙ্গালুরু-হাওরা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটি। করমন্ডল এক্সপ্রেসের আঘাতে মালবাহী ট্রেনের উল্টে যাওয়া বগি লাইনের মাঝে পড়ে থাকায় বেঙ্গালুরু-হাওরা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পিটিআই বলেছে, করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। আর বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় ১১৬ কিলোমিটার। এই দুই ট্রেনে প্রায় দুই হাজার যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া তৃতীয় মালবাহী ট্রেনটি সেখানে আগে থেকেই স্থির দাঁড়িয়ে ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান লাইনে সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেই লাইনে প্রবেশ করেনি। ট্রেনটি ঢুকে পড়েছিল লুপ লাইনে। সেখানে আগে থেকে একটি মালবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এই ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে করমন্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়।