লিফট কিনতে ৬ কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়া স্থগিত

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর মো. সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে লিফট কিনতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৬ কর্মকর্তার তুরস্ক যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার পাবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে এই সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে উপাচার্য তাকে জানিয়েছেন।

জানা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হলসহ মোট পাঁচটি আধুনিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর জন্য কেনা হবে ২৫টি লিফট।

আর সেই লিফট কেনাকাটা ও তদারকির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল তুরস্ক সফরের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা।

এদিকে লিফট কিনতে পাবিপ্রবির ৬ কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়ার খবর জানাজানি হলে সারাদেশে হইচই পড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সদস্যরাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু বলেন, লিফট এখন জাহাজীকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেখানে মতামত প্রদানেরও সুযোগ নেই। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ বিষয়ে অভিজ্ঞও নন। এ সফরকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয় প্রমোদ ভ্রমণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মোস্তফা কামাল খান। প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা হলেন- কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কে. এম. সালাহ্ উদ্দীন, প্রকল্প পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল জি এম আজিজুর রহমান, প্রকৌশলী ফরীদ আহম্মেদ, রিপন আলী, জহির মুহা. জিয়াউল আবেদীন।

গত ৯ মে এই সফরের নির্ধারিত দিন ছিল। পরে ভ্রমণ পিছিয়ে ৬ জুন ঠিক করা হয়। তবে এই খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। পরে রাষ্ট্রপতি তার নিজ জেলার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বিতর্কিত উদ্যোগে হস্তক্ষেপ করেন এবং তা বন্ধ করেন।

এ বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জি এম আজিজুর রহমান বলেন, ছয়জনের যে প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাদের জন্য কোনো অতিরিক্ত সরকারি অর্থের প্রয়োজন ছিল না। সফরের এই অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বহন করার কথা ছিল। এখানে কোনো অপচয় ছিল না।