দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে বসুন্ধরা কিংস। শুক্রবার (২৬ মে) কিংস অ্যারেনায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা নিশ্চিত করেছে তারা।
১৯৮৩-৮৫ ঢাকা আবাহনী আবার ১৯৮৬-৮৮ ঢাকা মোহামেডান হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতলেও, টানা চারবার জয়ের রেকর্ড নেই কারও। ২০০৭ সাল থেকে পেশাদার ফুটবল লিগ প্রবর্তন হয়েছে বাংলাদেশে। পেশাদার লিগের প্রথম তিন আসরে ঢাকা আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হলেও, তারাও টানা চারবার লিগ জিততে পারেনি। বসুন্ধরা কিংস ২০১৮ সালে পেশাদার লিগে এসেই টানা চার বার লিগ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কিংস টানা লিগ জয়ের রেকর্ড গড়লেও বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অবশ্য এখনও রেকর্ডটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের। ১৯৫০-৫৪ সালে এই ক্লাবটি টানা চ্যাম্পিয়ন ছিল। ৫৫ সালে লিগ সম্পন্ন হয়নি। পরের বছরও চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা ছয় শিরোপা জিতে অনন্য রেকর্ড গড়ে ক্লাবটি। তবে এবার কিংসের শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই। ১৭ ম্যাচে ১৫ জয়ে ৪৬ পয়েন্ট অস্কার ব্রুজন শিষ্যদের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনীর পয়েন্ট ৩৪।
শুক্রবার (২৬ মে) ম্যাচটি প্রথম দিকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। তবে ৬ মিনিটে বসুন্ধরা কিংস লিড নেয়। এরপর শেখ রাসেল দুই গোল করে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে ৩-২ লিড নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বসুন্ধরা কিংস।
দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংস আরও তিন গোল করলে শেখ রাসেল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শেখ রাসেলও দুই গোল করে, তবে সেটি তাদের পরাজয় ঠেকাতে যথেষ্ট ছিল না। সেটি মূলত হারের ব্যবধান কমিয়েছে। এবারের প্রিমিয়ার লিগে এটাই সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। ম্যাচের শেষ দিকে জ্বলে ওঠে কিংস অ্যারেনার ফ্লাডলাইট। উৎসবের আমেজে কোনও কমতি ছিল না কিংসের। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন কানায় কানায় পরিপূর্ণ কিংস অ্যারেনার দর্শকরা।