নোমানের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ,পাল্টা অভিযোগ আ.লীগের

খাগড়াছড়িতে দলীয় সমাবেশে যোগদান করতে গিয়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের গাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতিসহ ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নোমানের গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ মে ) সকাল সাড়ে ১১টায় জনাব নোমানের গাড়িবহর খাগড়াছড়ি শহরের কলেজ রোডে নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আসলে হামলার শিকার হয়। এসময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খাগড়াছড়ি বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে নিয়ে আসার সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে হামলা করা হয়।
“হামলায় নোমান সাহেব রক্ষা পেলেও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজাসহ দলের পাঁচজন আহত হয়েছেন,” বলেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক নিপু আহম্মেদ জানান, বিনা উস্কানিতে পুলিশের সহায়তায় গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। এতে গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। হামলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, সদর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, ৩নং ওয়ার্ড সদর পৌর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইফতি হাসান, মানিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এদিকে শহরের কলাবাগান এলাকায় আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে বাধাদানসহ ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য নাকচ করে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএমএইচ ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী সন্ত্রাস- নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পূর্ব নির্ধারিত শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীরা অফিসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বিএনপির গাড়িবহর থেকে কার্যালয়ের দিকে ইট ও পাটকেল ছোঁড়া হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খাগড়াছড়ি মডেল থানার ওসি আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি।” আহত হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা।

সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার ১৯ জেলায় সমাবেশ ডাকে বিএনপি। এই সমাবেশে যোগ দিতেই খাগড়াছড়িতে যান নোমান।

খাগড়াছড়িতে বিএনপির জনসমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, যারা আজ রাজপথ রক্তাত্ত করেছেন তাদের পতন হবে । পথে পথে হামলা, নোমানের গাড়িবহরে হামলার পরও ভাঙ্গা ব্রীজ এলাকায় সমাবেশ হয়েছে শুক্রবার বিকেলে ।

জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোমান আরো বলেন, দশ দফার আন্দোলন এক দফায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে । এ সরকারের সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে, তাই আস্ফালন বেড়ে গেছে । তিনি নেতা কর্মীদের মানসিক শক্তি দিয়ে সাহস নিয়ে আগামীতে এক দফার আন্দোলনে অংশে ন্ওেয়ার জন্য আহবান জানান ।

জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএন আবচার, সহ সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা ,এডভোকেট আবদুল মালেক মিন্টু সহ নেতার্কমীরা ।

গত কয়েক মাস ধরেই বিএনপির কর্মসূচির দিন মাঠে সক্রিয় থাকছে আওয়ামী লীগও। এই ১৯ জেলাতে ক্ষমতাসীন দলও রাজপথে সক্রিয় আছে।

বিএনপির কর্মসূচি থাকছে শনিবারও। সেদিন ১৫ জেলা ও মহানগরে সমাবেশ করবে বিরোধী দলটি।