এফডিসিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে মানতে হবে শর্ত

বিএফডিসি, নামটা শুনলেই শত শত মুখ ভেসে আসে।  কখনও সিনেমা হলের বড় পর্দায় কিংবা দেয়ালে দেয়ালে রঙিন পোস্টারে দেখা মিলেছে তাদের।  আর এই মুখগুলো একত্রে দেখা মেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বা বিএফডিসিতে; যাকে বলা হয় সিনেমার আঁতুড়ঘর।

এই ঘরেই প্রতিনিয়ত চলে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন। নানা রঙের লোকেশনে নায়ক-নায়িকা, ভিলেনদের শুটিং নিয়ে নির্মাতাদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।  কখনও গানের আওয়াজ আবার কখনও মারামারির।  এরই নাম এফডিসি।

এসবের বাইরেও আড্ডা, সাংস্কৃতিক কোনো অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন ভক্তদের দেখা যায় গেটের বাইরে উঁকিঝুঁকিও মারতে।  আচ্ছা পাঠক এতটুকু পড়ে কি মনে হলো কেউ কি বাদ যাচ্ছে? হুম, ঠিকই ধরেছেন।  তারা বরাবর ক্যামেরার পেছনেই থেকে যান ।  তারাই সাংবাদিক।  যারা সংবাদটি প্রচার কিংবা লেখনীর মাধ্যমে মেলে ধরেন বিশ্বদরবারে, তাদের জন্যই বিএফডিসির প্রধান ফটক কিছুটা নিয়মের মধ্য দিয়ে পার হতে হবে।

বুধবার (১৭ মে) হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় ‘দাপ্তরিক আদেশ’ নামক একটি কাগজকে ঘিরে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) প্রবেশে ‘নতুন শর্ত’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  সাংবাদিকরা এখন ইচ্ছেমতো ক্যামেরা নিয়ে বিএফডিসিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।  অনুমতি পেলেই পাস নিয়ে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।

এতে বলা হয়, করপোরেশনের সিটিজেন চার্টার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

. যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্র নির্মাণের আবেদন ফি ২৫০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হলো।

. সংবাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে মিডিয়ার ক্যামেরা প্রবেশ করলে অবশ্যই বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর নিজস্ব লেটার হেডপ্যাডে আবেদন করতে হবে।

. নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বক্ষণিক সেবার ক্ষেত্রে বিএফডিসিতে প্রবেশের সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে গেট পাস ইস্যুর মাধ্যমে অধিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথভাবে পালন ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

এই আদেশের কপিকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।  দীর্ঘদিন ধরে যারা নিয়মিত সংবাদের জন্য যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগ সাংবাদিকই দ্বিমত পোষণ করেন।  এ নিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।  বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার পেছনের আসল ঘটনাটা কী, এটা খোঁজার চেষ্টা করেছেন আরটিভি নিউজ।

তবে প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, সিনেমার বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিত্রনায়িকা, নির্মাতা ও চিত্রনায়েকর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।  এমনকি নাম প্রকাশেও অনিচ্ছার কথা জানান।  কিন্তু নাম প্রকাশ না করলেও এতটুকুই বলা যায়, তাদের সবার ভাষ্য ছিল একই।  এখনও তারা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা করে জানানো হবে বলে জানা যায়।  তবে কার সঙ্গে আলাপ করবেন বা এ বিষয়ে তারা কী নিশ্চিত নন, এটি এখনও পরিষ্কার করেননি কেউ।