চেমসফোর্ডে রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের জয়

রবিবার তৃতীয় ওয়ানডে

 

চেমসফোর্ডের মাঠে রেকর্ড গড়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।  শুক্রবার (১২ মে) ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩ উইকেটে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শুরুর আগেই বৃষ্টি।  তাতে ৫০ ওভার থেকে কমিয়ে ৪৫ ওভার করা হয়। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান করে আইরিশরা।  জবাবে ৪৪.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।  রবিবার (১৪ মে) দু-দেশের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে একই মাঠে একই সময়ে শুরু হবে।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন পল স্টার্লিং ও স্টিফেন ডহেনি।  তবে প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদের পেসের কাছে পরাস্ত হন স্টার্লিং।  এরপর ক্রিজে আসেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবির্নি।  দু’জনে মিলে ১৫ রানের জুটি গড়েন।  তবে ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই স্টিফেন (১২) সাজঘরে ফেরেন।  তবে হ্যারি টেক্টরের ফিফটি ও আইশির দলপতির ৪২ রানে শতরান পার করে স্বাগতিকরা।

এদিন একাই লড়াই করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক তুলেন নেন।  তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ৯৩ বল খেলেন তিনি।  এর মধ্যে ৬টি ছয় ও ছয়টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।  ব্যক্তিগত ১৪০ রানে ফেরেন টেক্টর।  এরপর দুর্দান্ত সব শট খেলে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন ডরকল।  পাশাপাশি মার্ক আদাইরের ২০ রানের ছোট্ট ক্যামিওতে ৩১৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।

এদিকে, অনেক নাটকীয়তার ম্যাচে শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫ রান।  হিসেবটা বেশ সহজ।  কিন্তু স্বীকৃত ব্যাটার বলতে ছিলেন কেবল মুশফিকুর রহিম।  স্ট্রাইকে গিয়ে মুশফিক প্রথম দুই বলে রান নিলেন না।  তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিলেন মুশফিক।  কিন্তু বলটি কোমরের ওপরে থাকায় ‘নো’ দেন আম্পায়ার।  ফ্রি-হিট পেয়ে যান মুশফিক।  তাতেই ফ্রি-হিটকে সহজেই সীমানার দড়ি পার করে বিজয় উল্লাসে মাতেন মুশফিক।  ২৮ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তিনি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।

তবে, জয়ের ভিতটা গড়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর তাওহিদ হৃদয়।  আলাদা করে বলতে হয় শান্তর কথা।  ১১৭ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার, ৯৩ বলের ঝোড়ো যে ইনিংসে ১২টি চারের সঙ্গে হাঁকান ৩টি ছক্কা।  হৃদয় হাফসেঞ্চুরির পর ফিরলেও তার ইনিংসটা ছিল ভীষণ ইমপ্যাক্টফুল।  চতুর্থ উইকেটে শান্তর সঙ্গে ম্যাচ জেতানো জুটি তো গড়েছেনই, চোখ ধাঁধানো কিছু ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখেন এই তরুণ।  শান্ত-হৃদয়ের জুটিতেই ম্যাচটা জয়ের পথে চলে আসে বাংলাদেশ।

৪৫ ওভারে লক্ষ্য ৩২০ রান।  নিঃসন্দেহে কঠিন।  দুই ওপেনার তামিম ইকবাল (৭) ও লিটন দাস (২১) দলকে ভরসা দিতে পারলেন না।

৪০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।  সেখান থেকে চাপ সরানো এক জুটি সাকিব আল হাসান আর নাজমুল হোসেন শান্তর।  ৪৭ বলে ৬১ রানের জুটিতে প্রতিপক্ষ যখন কোণঠাসা, ঠিক তখন সাকিব ভুল করে সাজঘরে ফেরেন ২৬ রান করে।  সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ১০২ বলে ১৩১ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি শান্তর।  ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা শান্ত করেছেন ঝড় তুলেই।  ৮৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।  হৃদয়ও (৬৮) চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং করেছেন।