দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্ত এক স্মরণীয় ইনিংস খেললেন। ৯৩ বলে ১১৭ রান । হ্যারি টেক্টরের ১৪০ রানের বিপরীতে তার ব্যাটে জবাব দিলো বাংলাদেশ। চেমসফোর্ডে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে শেষ ওভারে এসে ৩ উইকেট আর ৩ বল হাতে রেখে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৪৫ ওভারে ৩২০ তাড়া করে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিলো বাংলাদেশ।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যে নেমে চতুর্থ ওভারে তামিম ইকবালের (৭) ব্যাটিং ব্যর্থতা। লিটন দাসকে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়েছিলেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভেঙে যায় এই জুটি।
দলীয় ৪০ রানে লিটন (২১) সাজঘরে ফিরলে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে শান্ত দলের চাহিদা মেটান। দুজনের জুটি ভেঙে যায় ১০১ রানে। ঝড় তোলার পর সাকিব ২৭ বলে ২৬ রানে থামেন।
নতুন জুটি গড়েন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের কাছে আইরিশ বোলাররা অসহায়। শান্ত পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এরপরই ফিরে যান হৃদয়। ৫৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৬৮ রানে থামেন তিনি। তাদের ১৩১ রানের জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে ফেলে বাংলাদেশ।
মুশফিককে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি শান্ত। ৯৩ বলে ১২ চার ও ৩ ছয়ে ১১৭ রানে থামেন তিনি। ততক্ষণে জয়ের সমীকরণ সহজ করে ফেলে বাংলাদেশ। যদিও মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ঠাণ্ডা মাথায় বাকি কাজ সেরে আসেন মুশফিকুর রহিম।
শেষ ওভারে ৫ রান দরকার ছিল। মার্ক অ্যাডায়ার প্রথম ২ বলে ডট দিলে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরে। তবে তৃতীয় বলে কোমরের নো বলে হিসাব আরও সহজ হয়। তৃতীয় বলে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেন মুশফিক। ২৮ বলে চার চারে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আগামী রবিবার হবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৪.৩ ওভারে ৩২০/৭ (মুশফিকুর ৩৬*, শরিফুল ৪*; তাইজুল ৯, মিরাজ ১৯, শান্ত ১১৭, হৃদয় ৬৮, সাকিব ২৬, লিটন ২১, তামিম ৭)
আয়ারল্যান্ড ৪৫ ওভারে ৩১৯/৬ (জর্জ ডকরেল ৭৪*, অ্যাডায়ার ২০*; হ্যারি টেক্টর ১৪০, কার্টিস ক্যাম্ফার ৮, টাকার ১৬, বালবির্নি ৪২, স্টিফেন ডোহেনি ১২, পল স্টার্লিং ০)।
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী ।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।