ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। উপত্যকার দক্ষিণে খান ইউনিসের কাছে হামাদ আবাসিক শহরের ভবনটির পঞ্চম তলায় যুদ্ধবিমান দিয়ে সকালে এ হামলা চালানো হয়। পিআইজে-এর সশস্ত্র শাখা নিশ্চিত করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের প্রধান আলি হাসান গালি বৃহস্পতিবার সকালের হামলায় মারা গেছেন। তিনি আবু মুহাম্মদ নামেও পরিচিত ছিলেন।
বুধবার গাজা থেকে থেকে ৪৬০টিরও বেশি রকেট ছুড়ে ‘জঙ্গিরা’। জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ১৩০টিরও বেশি ‘জঙ্গি’ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
ইসলামিক জিহাদকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো হামলায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২৫ জন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ইসলামিক জিহাদের তিনজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
তবে ইসরায়েলের কেউ এসব হামলায় হতাহত হয়নি। পিআইজের আর্মড উইং নিশ্চিত করেছে যে, তাদের মিসাইল ইউনিটের প্রধান আলি হাসান ঘালি নিহত হয়েছেন। তিনি আবু মুহাম্মদ নামেও পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালের হামলায় তিনি নিহত হন।
গাজায় হামাসের পর সবচেয়ে বড় সংগঠন পিআইজে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘালিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেসব রকেট হামলা চালানো হয়েছে তার জন্য দায়ী ছিলেন ইসলামিক জিহাদের এই কমান্ডার।
এক বিবৃতিতে ঘালির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামিক জিহাদ। এদিকে বুধবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি। প্যালেস্টিনিয়ান ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত কয়েকদিনের হামলায় ৬৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া নিহত ২৪ জনের মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি গাজা থেকে বুধবার সন্ধ্যায় চার শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এসব হামলায় ইসরায়েলের তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনকি কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।