ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলার সম্ভাব্য প্রাথমিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলায় ত্রাণ কার্য হিসেবে চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রস্তুত রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সাথে ও জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের নাম্বারে যোগাযোগ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
বুধবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
সভায় চট্টগ্রাম জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান,সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার( ভূমি), উপপরিচালক সিপিপি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এনজিও, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রস্তুত থাকবে ৪১টি ওয়ার্ডে ৯০টি আশ্রয় কেন্দ্র। নগরীর দামপাড়ায় এই কন্ট্রোল রুমের ০২৩-৩৩৩-৬৩০-৭৩৯ জরুরি সেবা নম্বরে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ও সেবা পাবেন চট্টগ্রামবাসী।
বুধবার চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখা আঘাত হানলে যাতে সাধারণ মানুষের জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায় এবং দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজ যাতে সর্বোচ্চ গতিতে পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’
সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে– ৪১টি ওয়ার্ডে ৯০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা; কন্ট্রোল রুম গঠন; ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করা; ঘূর্ণিঝড় মোখার গতিবেগ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি যেকোনও পদক্ষেপ গ্রহণ; নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করা।
পাশাপাশি আরবান মেডিক্যাল টিম, আরবান ভলান্টিয়ার ও উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় যানবাহন প্রস্তুত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়কবাতি নির্বিঘ্ন রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।