পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির (পিটিআই) নেতা-কর্মীরা। ইমরান খানের গ্রেফতারের পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে।
বুধবার ( ১০ মে ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৪২ জন। খবর ডন।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনজন নিহত ছাড়াও পেশোয়ারে বেশ কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মরদেহ লেডি রিডিং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করে সেখানে নেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতরা হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয় মঙ্গলবার (৯ মে)। এদিন তার গ্রেফতারের পরপরই প্রতিবাদে করাচী, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারসহ সবগুলো বড় শহরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজপথে নেমে আসে খানের হাজার হাজার কর্মী ও সমর্থক।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ ক্রমেই জোরালো হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাব প্রদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সেনা মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়াতেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
এর আগে পাঞ্জাব সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ কোম্পানি সেনা মোতায়েনের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করলে তা অনুমোদন করা হয়। সরকারের পক্ষা থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনী জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করবে।
এদিকে বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র পাঞ্জাব প্রদেশেই প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, প্রদেশে সরকারি সম্পত্তি, পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রদেশজুড়ে সহিংস কর্মকাণ্ড, ভাঙচুর, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিতে জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় ১৩০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ প্রদেশজুড়ে ৯৪৫ জন আইন ভঙ্গকারী ও দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে।
পাঞ্জাব পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, পুলিশ ও সরকারি সংস্থার ২৫টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ১৪টিরও বেশি সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছেন, লুটপাট করেছেন ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করেছে।