আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খানের শুনানি হবে বিশেষ আদালতে। নিরাপত্তা হুমকির কারণেই ইমরান খানকে আদালতে আনা হবে না। হেফাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার নির্ধারিত শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার।
পিটিআই জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ইসলামাবাদের এইচ-১১-এর পুলিশ লাইনস গেস্ট হাউজে উপস্থিত করা হবে।
ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (এনএবি)-এর পরোয়ানার ভিত্তিতে। ১ মে সংস্থাটির চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অব.) নাজির আহমেদ বাট এই পরোয়ানা জারি করেন। ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৯৯-এর ৯এ ধারায় ইমরানকে কাস্টডিতে নেওয়া হয়। ইসলামাবাদ/রাওয়ালপিন্ডির পুলিশ সদর দফতরে ইমরান খানকে আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে ইমরান খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সমর্থকরা।
রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিক্ষোভ করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সমর্থকরা। এছাড়া রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, করাচি, গুজরানওয়ালা, ফয়সালাবাদ, মুলতান, পেশোয়ার এবং মারদানসহ সারা দেশের শহরগুলোতে বিক্ষোভ করছে বলে জিও নিউজ জানিয়েছে।
ইমরান খানের প্রায় চার হাজারের মতো সমর্থকরা লাহোরে সেনাবাহিনীর শীর্ষ আঞ্চলিক কমান্ডারের সরকারি বাসভবনে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। তারা দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সৈন্যরা সহিংসতা এড়াতে পিছু হটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন এবং প্রধান প্রধান সড়ক আটকে দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরের প্রধান ফটকে ভাঙচুর চালিয়েছে। সেখানে সৈন্যরা সংযম দেখিয়েছে। শতশত বিক্ষোভকারী খানপন্থী স্লোগান দেন এবং সামনে ভবনের দিকে এগিয়ে যান।
ইমরান খানকে ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডিতে নেওয়া হয়েছে। সেখানেও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর অফিসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।