চট্টগ্রামে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে পলাতক স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতার সাখাওয়াতের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি স্ত্রী রীনা আক্তারকে (২৮) নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার কলসি দীঘি সড়কে হাজী মাহমুদ মিয়া কলোনির তৃতীয় তলার ১২ নম্বর কক্ষে ভাড়া থাকতেন।
গত শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কালিকাবর দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতার সাখাওয়াতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর সদর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, মৃত রীনা আক্তার কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি কারখানায় কাজ করতেন। পরিবারকে না জানিয়ে ছয় মাস আগে রীনা তার প্রেমিক সাখাওয়াতকে বিয়ে করেন। ঈদ উপলক্ষে সাখাওয়াত ময়মনসিংহে তাদের গ্রামের বাড়িতে রীনাকে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। হত্যাকান্ডের দিন অর্থাৎ গত ২৪ এপ্রিল সকালে তারা চট্টগ্রামে ফেরেন। বাসায় ফেরার পর ঝগড়ার জেরে সাখাওয়াত শ্বাসরোধ করে রীনাকে খুন করেন। পরে লাশ চাদর দিয়ে মুড়িয়ে বিছানায় রেখে পালিয়ে যান।
র্যাব কর্মকর্তা মাহফুজুর আরো জানান, তাদের দুজনের মধ্যে বয়সের বেশ তফাৎ ছিল। রীনা তার স্বামী সাখাওয়াতের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় বছরের বড় ছিলেন। সাখাওয়াত টিকটক করতেন। টিকটকের সূত্রেই তাদের মধ্যে প্রেম হয়। তবে সাখাওয়াত সংসারের প্রতি সিরিয়াস ছিলেন না। আবেগের বশে বিয়ে করলেও স্ত্রী কিংবা সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধ তার তৈরি হয়নি। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে গলাটিপে করে খুন করেন সাখাওয়াত। ২৪ এপ্রিল দুপুরে সাখাওয়াত ফোন করে রীনার পরিবারের সদস্যদের জানায়, রীনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে রীনা’র পরিবার তা বিশ্বাস করেনি। কারণ সেদিন রীনার তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তারা না যাওয়ায় পরদিন রীনা’র পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুজনেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন বাসাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। তখন পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙে বিছানার ওপর চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রীনার লাশ উদ্ধার করে।
গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে কলসি দীঘির বাসা থেকে রীনা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রীনার বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। এই ঘটনায় তার বাবা সাখাওয়াতকে আসামি করে নগরীর বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।