চাকরিচ্যুত হলেন মানবিক পুলিশ ইউনিটের সেই শওকত

কর্মস্থলে অনুপস্থিত টানা ৭১ দিন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনে কর্মরত আলোচিত কনস্টেবল শওকত হোসেনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।  ১৬ এপ্রিল তার চাকরিচ্যুতির আদেশ হয়।  তার চাকরিচ্যুতির আদেশে স্বাক্ষর করেন সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাকিলা সোলতানা।  তবে বিষয়টি জানাজানি হয় বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল)।

আদেশে বলা হয়, ৭১ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।  এর আগে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।

চাকরিচ্যুতির আদেশে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত (শওকত হোসেন) শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা থাকায় এবং বেওয়ারিশ মানুষ নিয়ে মানবিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়’ লিখিতভাবে এমন বক্তব্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, অসহায় রোগীদের নানা সময়ে সেবার ব্যবস্থা করে প্রশংসিত হয়েছিলেন কনস্টেবল শওকত।  দীর্ঘদিন নীরবে কাজ করলেও ২০১৯ সালে ২৯ নভেম্বর নগর পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তার বিষয়টি তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমানের সুনজরে আসে।  সঙ্গে সঙ্গে তিনি শওকতের নেতৃত্বে একটি ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ চালু করেন।

তবে ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নগরের দেওয়ানহাট এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া ‌‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের জেরে তাকে ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।  একই সঙ্গে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর মানবিক পুলিশ ইউনিট বিলুপ্ত করে দেন।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাস্তায় স্বজনহীন কোনো মানুষ পড়ে থাকার খবর পেলেই ছুটে যেতেন এই ইউনিটের সদস্যরা।  তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন।  ইউনিট গঠনের আগে থেকেই রাস্তায় স্বজনহীন অসহায় কিংবা মানসিক রোগী যাদের হাসপাতালে স্থান পেত না সেসব রোগীদের নিজেদের টাকায় সেবা দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কিছু সদস্য।  আর তাদের নেতৃত্বে ছিলেন কনস্টেবল শওকত।