চার দিন পর খুলেছে দেবতাখুম, ভ্রমণে মানতে হবে চার শর্ত

টানা চার দিন পর বান্দরবানে অন্যতম পর্যটন স্পট দেবতাখুম অবশেষে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের চারটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে রোয়াংছড়ি নির্বাহী অফিসার তাসলিম আলম তুলি স্বাক্ষরিত মাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণের ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় ১৬ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত রোয়াংছড়ি উপজেলাধীন দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই)থেকে দেবতাখুম পর্যটন স্পট পর্যটকদের জন্য নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে পুনরায় উন্মুক্ত করা হলো।

দেবতাখুম বেড়াতে গেলে পর্যটকদের মানতে হবে যে চারটি শর্ত-

প্রথমত: পর্যটক বহনকারী কোনো যানবাহন (বাইক, চাঁদের গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি ইত্যাদি) কচ্ছপতলী বাজার অতিক্রম করতে পারবে না। সব যানবাহন কচ্ছপতলী বাজারে রেখে কচ্ছপতলী বাজার থেকে দেবতাখুম পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পর্যটকদের পায়ে হেঁটে অথবা নৌপথে যাতায়াত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: ঝুলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক পর্যটককে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে। লাইফ জ্যাকেট ব্যতীত কোনো পর্যটককে নৌযানে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হবে না।

তৃতীয়ত:পর্যটকদের নিজ নিজ নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পর্যটন ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নিবন্ধিত গাইডের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

চতুর্থত:আবহাওয়ার আকস্মিক অবনতি, ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসন প্রয়োজনে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

গেল টানা আট দিন বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চল ও বন্ধ হয়ে যায় অভ্যন্তরীণ সড়ক পথ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার বিভিন্ন স্থান। এতে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধ করে দেয়া হয় বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জেলাটি।

রোয়াংছড়ি ট্যুরিস্ট গাইডের সভাপতি পলাশ তংচগ্যা বলেন, অবশেষে প্রশাসন দেবতাখুম খুলে দিয়েছে। এতে গাইড, চালক ও যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছে তারা খুবই আনন্দিত। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিল পর্যটন সেক্টরে কর্মরত সবাই। খুলে দেয়াই আবারও দেবতাখুম প্রাণ ফিরে পাবে।

বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রোয়াংছড়ির তারাছা খালের শীলবাঁধা পাড়ায় দেবতাখুমের অবস্থান। দুই পাশে বিশাল পাথুরে পাহাড় এবং মাঝে প্রায় ৫০-৮০ ফুট গভীর ও ৬০০ ফুট দীর্ঘ স্বচ্ছ নীল পানির এই খুমটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। খুমের ভেতরে সরাসরি সূর্যের আলো কম পৌঁছানোয় এর চারপাশের পরিবেশ বেশ শীতল ও রহস্যময় থাকে। খুমের আদিম ও শান্ত পরিবেশে বাঁশের ভেলায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোই এখানকার মূল আকর্ষণ।