গ্রেপ্তার হচ্ছে না আসামিরা, দায় এড়াচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর
চসিক কাউন্সিলর জসিম ও ৩ প্রকৌশলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) এক কাউন্সিলর ও তিন প্রকৌশলীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মামলা করে দায় এড়াচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতার কারণে সাত আসামি আদালত থেকে জামিন নেওয়ার প্রক্রিয়া করছেন বলে জানা গেছে।
গত ৭ এপ্রিল বিকেলে আকবর শাহ বেলতলী ঘোনায় পাহাড় কাটার কারণে মাটি ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার ছয়দিন পর গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগরীর আকবর শাহ থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাছান আহম্মদ বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে চসিকের ৯ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমকে। অন্য আসামিরা হচ্ছেন-সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালি আহমেদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবি হক ব্রাদার্সের ওমর ফারুক ও তাকিয়া বেগম এবং মোহাম্মদ ইসমাইল।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দৈনিক দেশ বর্তমানে ‘‘পাহাড়তলীতে ‘পাহাড়খেকো’ কাউন্সিলর জসিমের রামরাজত্ব শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সাধারণত মামলা হলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু চসিক কাউন্সিলর জসিম ও ৩ প্রকৌশলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দায় সেরেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো তৎপরতা নেই সংস্থাটির। ফলে মামলা হওয়ার পরও আসামিরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তর কারো বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশের সহায়তা নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করবে সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু এ পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর যতগুলো মামলা করেছে, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। মামলা করার পর সংস্থাটি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে দায় সারে। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
জানা গেছে, পরিবেশ আইনের মামলায় জামিনের জন্য আসামিদের উচ্চ আদালতেও যেতে হয় না। নিম্ন আদালত থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে জামিন পেয়ে যান।
জানা গেছে, কাউন্সিলর জসিমের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর এ পর্যন্ত দুটি মামলা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘মামলা করার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের সহায়তা নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু সেই চর্চাটা আমরা সাধারণত করি না। আমরা বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দিই। মামলা করার পর আমরা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিই। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।’
এদিকে গত ৭ এপ্রিল আকবরশাহ বেলতলী ঘোনায় পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চসিকের তদন্তে কাউন্সিলর জসিম ও ৩ প্রকৌশলীকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির অনিয়মের দায় চসিক নেবে না। তদন্তে যাদের অভিযুক্ত করা হবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’
জানা গেছে, আকবরশাহ বেলতলী ঘোনায় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ করছে চসিক। ওই প্রকল্পের আওতায় রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, চসিক অনুমোদন না নিয়ে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা করছে। কাটা অংশে ইটের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই অংশে গত ৭ এপ্রিল পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।