পুরানো বছরের দুঃখ জরা ভুলে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় বান্দরবান রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে চলছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’। চেঙ্গী মাইনী ও সাঙ্গু নদীতে বুধবার (১২ এপ্রিল) ভোরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা আগামী তিনদিন বিভিন্ন উৎসব করবেন। রীতি অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় এই আয়োজন। এ জন্য বুধবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই চেঙ্গী মাইনী ও সাঙ্গু নদী তীরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রকমের ফুল নদীতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের পুজা করেন চাকমা তরুণ–তরুণীরা। পরে নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দ্যেশে প্রার্থনা করা হয় ।
ফুল বিজুতে অংশ নেওয়া নুপুর চাকমা বলেন, গত বছরের যতো দুঃখ কষ্ট গ্লানি ভুলে গিয়ে আমরা নতুন বছরকে বরণ করে নিব। তাই প্রতিবছর আমরা এখানে জড়ো হই।’ উৎসবে অংশ নেয়া ডক্টর রাজষী চাকমা, “ফুল দিয়ে উপগুপ্ত বুদ্ধকে পুজা করি। ফুল দিয়ে ঘর সাজাই। নতুন বছরকে বরণ করি এবং পুরনো বছরকে বিদায় জানাই।”
বুধবার সকালে বান্দরবানের সাংগু নদীতে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা পানিতে ফুল বিসর্জন দিয়ে শুরু করে ফুল বিষু উৎসবের। এসময় বিভিন্ন তারা পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। এ সময় তারা নতুন কাপড় পরিধান করে ফুল নিয়ে জল দেবতাকে পূজা করে এবং পুরাতন সব দুঃখ মুছে ফেলে আগামী দিনে অনাবিল সুখ শান্তির প্রত্যাশা করে। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বাঙালি ছাড়াও ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো জেলায় নেই। ১১ জাতিসত্ত্বার নানা বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, নানা সংস্কৃতির সম্মিলন উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
এদিকে বান্দরবান সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিং মারমা জানান, নানা আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হবে সাংগ্রাই উৎসব। আর শোভাযাত্রা শেষে হবে বয়ঃজ্যেষ্ঠ পূজা। আগামীকাল শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে পবিত্র বুদ্ধ মূর্তি স্নান রাতব্যাপী পিঠা তৈরি উৎসব, ১৫ এপ্রিল সকালে রাজার মাঠে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও দুপুওে মৈত্রী পানি বর্ষণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তৈলাক্ত বাঁশ আরোহণ ও সবশেষে ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিহারে বিহারে সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে উৎসবের।

রাঙ্গামাটি : কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হচ্ছে বৈসাবির মূল আয়োজন। যা ফুল বিজু নামে সর্বাধিক পরিচিত। বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ পাড়ায় পাড়ায় হ্রদে ফুল ভাসানো হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বয়সীরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে। খুব ভোরে মা গঙ্গার উদ্দেশে নদীতে এই ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের পিনোন হাদি পরে আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি/ফতুয়া পরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠে।