চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক চিড়িয়াখানায় মা ক্যাঙ্গারু নতুন বাচ্চা প্রসব করেছে। এক সপ্তাহ ধরে মা ক্যাঙ্গারুর থলিতে বাচ্চাটি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো বাচ্চাটির লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি। এ নিয়ে চিরিয়াখানায় মোট ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা দাড়াল পাঁচে। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ।
তিনি জানান, ক্যাঙারুর বাচ্চাটি জন্মের পর থেকে মায়ের থলিতেই আছে। এখনো মাটিতে পা পড়েনি বাচ্চাটির। তাই এখনো বাচ্চাটির লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি। এভাবে ধীরে ধীরে বড় হবে এটি।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ অক্টোবর হল্যান্ড থেকে আনা হয় ক্যাঙারু ও লামা। ওই দিন ভোর ৫টায় দুইটি পুরুষ, চারটি স্ত্রী ক্যাঙারু এবং দুইটি পুরুষ লামা, চারটি স্ত্রী লামা চিড়িয়াখানায় সংযোজন করা হয়। আমনির পরে কোয়ারেন্টাইন চলাকালিন সময়ে একটি ক্যাঙারু মারা যায়। এরপর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তত্ত¡াবধানে থাকাকালে আরো একটি ক্যাঙারু মারা যায়। সব শেষে দুইটি পুরুষ ও দুইটি স্ত্রী ক্যাঙারু ছিল চিড়িয়াখানায়। এর মধ্যে একটি মা ক্যাঙারুর থলিতে বাচ্চা দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে শতাধিক প্রজাতির অর্ধসহস্রাধিক পশু ও পাখি আছে। পশুর মধ্যে আছে সিংহ, পুরুষ ভাল্লুক, কুমির, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, উল্টোলেজি বানর, উল্লুক, হনুমান, গয়াল, সজারু, শেয়াল, মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, জেব্রা, ক্যাঙারু, ওয়েলবিস্ট, লামা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে ময়ূর, উটপাখি, ইমু, তিতির, টিয়া, চিল, শকুন, টার্কি, পায়রাসহ একটি পক্ষীশালা এবং প্রচুর অজগর সাপ। ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এর আগে তেত্রিশ লাখ টাকায় আফ্রিকা থেকে এক জোড়া বাঘ আনা হয়েছিল। সেই বাঘ দম্পতি প্রসব করে দুর্লভ সাদা বাঘ। এরপর থেকে সাদা বাঘের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।