এবারও চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলিখেলা হচ্ছে না শত বছরের ভেন্যু লালদিঘীর ময়দানে। এর পরিবর্তে বলিখেলা হবে লালদিঘী মাঠের সামনে গোলচত্বরে । এবছর বলিখেলার ১১৪ তম আসর হবে। প্রতিবছরের মত এবারও ১২ বৈশাখ অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল বলিখেলা হবে। বলিখেলা উপলক্ষে তিন দিনের বৈশাখী মেলা হবে। মেলা শুরু হবে ২৪ এপ্রিল। চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর লালদিঘীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘আব্দুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ জব্বারের বলিখেলা হয়। এই বলিখেলা শুধু খেলা নয়, এটি বাঙ্গালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সারাবিশ্বে এই বলিখেলাকে ছড়িয়ে দিতে আমরা একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি করব। জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্বদরবারে সুপরিচিত করতে ‘আব্দুল জব্বার স্মৃতি বলি প্রশিক্ষণ একাডেমি’করার ঘোষণা দেন মেয়র।
বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী বলেন, ‘টানা দুই বছর আমাদের জব্বারের বলিখেলা হয়নি। গতবছর মেয়রের পৃষ্ঠপোষকতায় আমরা করেছিলাম। এবারও আমরা কোনো স্পন্সর পাইনি। মেলার সময় ঈদের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এবারও মেয়র মহোদয় আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এই খেলাকে আমরা রক্ষা করতে চাই।’
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকতার আনোয়ার চঞ্চল, তাপস দে, অপূর্ব বড়ুয়া, চসিক কাউন্সিলর নীলু নাগ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বলিখেলা’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলিখেলার সূচনা করেন তিনি। সূচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদীঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলিখেলা। বলিখেলার এক দিন আগে ও পরে তিন দিন লালদিঘীর পাড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বসে মেলা। এ মেলায় গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে নানা পণ্যের পসরা বসে।