চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরকে অবৈধ দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়েছেন, র্্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহীদুর রহমান।
২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার নগরীর পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি ওই এলাকায় সোমবার অভিযানে গিয়ে হামলায় নিহত র্যাব ৭ এর সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার জানাজায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন র্যাবের প্রধান।
একের পর এক জঙ্গল ছলিমপুরে স্থানীয় ‘সন্ত্রাসীদের’ হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলার যতগুলো বাহিনী আছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, জেলা পুলিশ সবাই মিলে এবার (অভিযানের) চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। যেখানে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে এ জায়গাগুলো যদি সরকারি জায়গা হয় সরকার যেন তার জায়গাগুলো উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেখানে যত সময় লাগে যত দিন লাগে এ সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম সেটাকে আমরা নির্মূল করব। সেজন্য আমরা যত প্রক্রিয়া লাগবে যা কিছু লাগে লাগুক।
তিনি আরও বলেন, তারা কোনভাবে রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী না। সন্ত্রাসীদের এ অভয়াশ্রম আমরা নির্মূল করব।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গল ছলিমপুর সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। আমরা খুব শীঘ্রই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আছে তাদেরকে আমরা নির্মূল করব এবং এ আস্তানা গুঁড়িয়ে দেব। আপনাদের কাছে আমরা সহযোহিতা চাই।
সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানে গিয়ে হামলায় নিহত হয় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত অবস্থায় আরও তিনজন চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সোমবারের ঘটনায় র্যাবের কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “দেখব এ অভিযানে কোন ভুল ত্রুটি ছিল কিনা। যদি কোন ভুল ক্রটি পাই তাহলে আমরা সংশোধন করব।
এ ধরণের ঘটনায় আমাদের অধিকার ছিল সন্ত্রাসীদের গুলি করা, কিন্তু আমরা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে আরও ক্যাজুয়ালিটির আশঙ্খা ছিল। আমাদের সদস্যরা সন্ত্রাসীর দিকে গুলি করলে সাধারণ জনগণও আহত-নিহত হতো সে কারণে হয়তো গুলি করেনি।