ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার ( ৩১ মার্চ ) ২৫ হাজার রুপি জরিমানা করেছে গুজরাটের একটি আদলত। আর সেই ঘটনার দিন না পেরুতেই আবারও মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেজরিওয়াল।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতের আদেশ মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষিত হতে হবে, কারণ তাকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তথ্য দিতে প্রস্তুত না হওয়ার দুটি কারণ থাকতে পারে। হয় তার ঔদ্ধত্যের কারণে, অথবা তার ডিগ্রি ভুয়া।
শনিবার (০১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এর আগে মোদির ডিগ্রির বিশদ বিবরণ প্রকাশের জন্য গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া আদেশ খারিজ করে দেন আদালত। মোদির দাবি, তিনি ১৯৭৮ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে।
বিচারপতি বীরেন বৈষ্ণব বলেন, কেজরিওয়াল আরটিআইয়ের (তথ্য অধিকার) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির শিক্ষাগত ডিগ্রি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এটি কেজরিওয়ালের সততা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করে।
আদালতের দাবি, মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি এখন সবার সামনে পরিষ্কার। এখানে গোপনীয় কিছু নেই। কেজরিওয়ালকে চার সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার ২৫ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হবে। আদালতের এই রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদিম পার্টির (এএপি) প্রধান। এক টুইটে কেজরিওয়াল লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী কত দূর পড়াশোনা করেছেন, তা জানার অধিকারও কি দেশবাসীর নেই? এসব কী চলছে? অশিক্ষিত অথবা অল্প শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী দেশের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এদিকে কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অপ্রপ্রচার’ করছেন বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেছেন, কেজরিওয়াল যা করছেন, তা হতাশার প্রতিফলন। তিনি স্বাভাবিকভাবেই হতাশ, কারণ তার সরকারের মন্ত্রীরা দুর্নীতি এবং মদ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলে রয়েছেন।