গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন বিন্দান মৌজায় নিজের মালিকানাধীন ৬ একরেরও বেশি জমিতে জাল দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিক নেপাল চন্দ্র চক্রবর্তী। গত ৩ আগস্ট গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিন্দান মৌজায় ৬ একর ১২ শতাংশ জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন তিনি। জমিগুলো গাজীপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নামজারি ও জমাভাগের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করতেন।
অভিযোগে তিনি জানান, হঠাৎ করে ১ নম্বর বিবাদী বাসির আহম্মেদ তিনজন ব্যক্তির নামে জাল দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করেন। তিনি জমিতে গেলে বা অন্যত্রে জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে ওই ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা বাধা প্রদান করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একাধিকবার বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিবাদীরা কোনো কাগজপত্র দেখাননি বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন। নেপাল চন্দ্র চক্রবর্তীর অভিযোগ, গত ২ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে ১নং বিবাদী বাসির আহম্মেদ, মোঃ আব্দুল, জসিম, ফালান চন্দ্র মন্ডল এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন মিলে তার জমিতে স্থাপিত চারটি সিমেন্টের পিলার এবং মালিকানা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয় বলে তিনি দাবি করেন। লোকমুখে ঘটনার খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে তিনি ঘটনার সত্যতা পান। বর্তমানে বিবাদীদের হুমকির কারণে তিনি জমি ভোগদখল করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি থানায় এসে অভিযোগ করেন। জমির বিস্তারিত তফসিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নম্বর বিবাদী বাসির আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, গতকাল স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে থানায় বসেছিলাম। আমি তাদেরকে আমার যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছি। আলোচনার পর নেপাল ও গোপালকে ‘ছিটার’ (প্রতারক) বলা হয়েছে। নেপালের বিরুদ্ধে আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে, তার নামে কোর্টে মামলা চলছে। কিছুদিন আগে সে জেল খেটে এসেছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জামিনে বের হয়েছে। তিনি আরও বলেন,তারা কয়েকজন এর আগে ভুয়া দলিল দিয়ে স্বাক্ষী দিতে গিয়ে আটক হয়েছিল, একজন এখনো জেলে আছে। ওই মামলায় বিচারক নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মুখের কথায় কিছু হবে না, আমার কাছে সঠিক কাগজপত্র আছে, যা শিগগিরই সবার সামনে উপস্থাপন করবো। প্রসঙ্গত, জমি সংক্রান্ত বিরোধ গাজীপুর অঞ্চলে একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপে এ ধরনের অভিযোগগুলোর যথাযথ সমাধান নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।