পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে তথ্য ফাঁস না করতে অর্থ (হাশ মানি) দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের একটি আদালতের বিচারকরা তাকে অভিযুক্ত করেছেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনা ঘটেছিল। তবে অভিযোগের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে ওই নারীর সাথে তার সম্পর্ক গোপন রাখার বিনিময়ে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার অর্থ প্রদান করেছে। বিষয়টি তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিকভাবেই আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। তবে এসব যখন জল্পনা ও আলোচনার স্তরে ছিল, তখনই ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তিনি নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবেন। তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলায় ঠিক কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। তবে খুব তাড়াতাড়িই এক মার্কিন বিচারপতির আওতায় এই মামলা যাবে। তারপরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইনজীবী সুসান নিচেলিস ও জোফেস ট্যাকোপিনা ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা যথেষ্ট জোর দিয়ে এ মামলা লড়বেন।
এদিকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল। এর আগে কখনও এই পর্যায়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি এবং নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ ঘটানো হয়নি।
তবে ফৌজদারি মামলাটি ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। ট্রাম্প বর্তমানে রিপাবলিকান হোয়াইট হাউস মনোনয়ন পাওয়া সম্ভাব্য সব প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন।
কিন্তু মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোন প্রার্থী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেও তার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে – এমনকি কারাগার থেকেও রাজনীতি করে যেতে কোন বাধা নেই।
সূত্র: বিবিসি