চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে সাগর কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে মৌসুমী সুস্বাদু ফল তরমুজের। একটা সময় এই জমিগুলোতে গো-চারণ এবং ধান চাষ করতেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে এসব জায়গায় তরমুজের চাষাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রত্যেক বছর রবি মৌসুমে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে চরের অধিকাংশ জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। পূর্ব ইছাখালী গ্রামে দোঁআশ মাটি (বালিযুক্ত) ও উপযুক্ত পরিবেশ হওয়ায় এবং ইছাখালী খাল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকায় গত বছরের মতো এ বছরও পার্শবর্তী জেলার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার আশির বেশি উদ্যোক্তা মিরসরাইয়ে আবারও তরমুজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে তারা স্থানীয় কৃষকদের থেকে তিন মাসের জন্য প্রতি একর জমি ১৫ হাজার টাকা খাজনায় বর্গা নেন। সেই জমিতে তারা তরমুজের বীজ বপন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৭৫ একরেরও বেশি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ লতার সমারোহ। কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা গাছের চারপাশে পানি দিচ্ছেন। অধিকাংশ গাছে ফুল ফোটার পাশাপাশি তরমুজের মুকুলও এসেছে।
তরমুজ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল জলিল বলেন, গত বছর নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কৃষকরা সর্বপ্রথম এখানে তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাই আমরা ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১০০ জন মিলে ৭০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে তরমুজের চারাগাছ রোপণ করেছি। এখন গাছের চারায় ফুল এবং মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে।
আরেক উদ্যোক্তা মো. মেহেরাজ বলেন, আমরা নিজ উপজেলা সুবর্ণচরে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছি। মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় আমরা এখানে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষকদের থেকে জমি বর্গা নিয়ে ব্লাক গ্রীট, ড্রাগন, গ্লোরি, জাম্বুসহ বিভিন্ন প্রজাতির তরমুজ চাষ করেছি।
স্থানীয় কৃষক জামশেদ আলম বলেন, আমি প্রায় এক একর জমিতে এই প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। যদি কৃষি অফিস থেকে আমাদেরকে তরমুজ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই এই উপজেলায় তরমুজ চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হব।
স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, আমাদের নিজেদের জমিতে অন্য এলাকার লোকজন এসে বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিজেরা যদি চাষ করি তাহলে আমাদের এলাকা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে।
ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চাষিরা এবারও মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। তবে এবার গত বছরের চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার তাদের দেখাদেখি এখানকার স্থানীয়রাও তরমুজ চাষ করেছেন। তবে তরমুজ চাষে খরচ বেশি হওয়ায় এখানকার কৃষকরা আগ্রহ প্রকাশ করে না এবং তরমুজ চাষের ওপর তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
ইছাখালী ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার প্রায় ১০০ জন উদ্যোক্তা প্রায় ৭০ হেক্টরের বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি মার্চের শেষ দিকে অথবা এপ্রিলের শুরুতে তরমুজ বাজারজাত শুরু হবে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালীর চরাঞ্চলে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার লোকজন এসে তরমুজ চাষ করছে। তবে আমি এখনো যেতে পারিনি। আগামী সপ্তাহে তরমুজের জমিগুলো পরিদর্শন করব। আবহাওয়া উপযোগী থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তরমুজ চাষে পরিশ্রম অন্যান্য রবিশস্য থেকে বেশি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় যারা তরমুজ চাষ করতে আগ্রহী তাদেরকে নিয়ে ১২ মাসি তরমুজ চাষের একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সেখানে তাদেরকে তরমুজ চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সম্পর্কে জানানো হবে।