গণআন্দোলনকে জোরদার করতে বিএনপি নতুন নতুন কর্মপন্থা শুরু করেছে। নতুন নতুন পথে আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লন্ডলে বসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন নতুন পন্থায় দলের নেতাকর্মীদেরকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। স্কাইপে যুক্ত হয়ে তিনি নেতাদের সাথে কথাও বলছেন। জানা গেছে, সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ দশ দফা দাবির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি। এজন্য দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথেই হাঁটছে দলটি। এবার সফলতা পেতে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন নেতারা।
জানা যায়, এবার দল ‘ডু অর ডাই’ নীতিতে-এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য সেভাবেই প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নেতাদের ধারণা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সংলাপ বা আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা-এ ধরনের আলোচনায় কোনো ফল আসেনি। যে কারণে এবার তারা কোনো প্রস্তাবেই সাড়া দেবেন না। যদি সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, এ দুই দফা মেনে নেওয়া হয়, তবেই সংলাপ বা আলোচনার বিষয় বিবেচনা করা হবে।
গত সোমবার থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে দলের বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে ধারাবাহিক ভাবে মতবিনিময় করে যাচ্ছেন। তাতে তৃণমূলে এসব নেতারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মস‚চি ভালোভাবেই পালিত হচ্ছে। আন্দোলন সফল করতে হলে ঢাকায় জোরালো অবস্থান তৈরি করতে হবে। দ্রুত সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। এ আন্দোলনে গ্রামগঞ্জের মানুষের ব্যাপক সমর্থন আছে । মোট কথা,রাজধানী ঢাকায় আন্দোলনের গতি বাড়াতে হবে যে কোন মূল্যে।
সিলেট বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় সাবেক ও বর্তমান ১৬৪ জন চেয়ারম্যান অংশ নেন। এর মধ্যে ২৬ জন বক্তব্য দিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনপ্রতিনিধিদের কাছে জানতে চেয়েছেন, চলমান আন্দোলনের ব্যাপারে তৃণম‚লের সাধারণ মানুষের মনোভাব কী, সামনের আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কেমন হওয়া উচিত। সবাই বলেছেন, আন্দোলনের গতি বাড়াতে হবে। মানুষ অসহ্য হয়ে উঠেছে।’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
খুলনা বিভাগের বিএনপির বর্তমান ও সাবেক ১৯৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন। এর মধ্য থেকে ২৫ জন বক্তৃতা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মস‚চিতে জনগণকে বেশি করে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দাবি না মানলে রাজপথেই ফয়সালা হবে। বিএনপির দশ দফার সঙ্গে জনগণও যে একমত, এর প্রমাণ পেয়েছি বিভিন্ন পদযাত্রায়। ভালো সাড়া পাচ্ছি। জনগণ অংশগ্রহণ করছে। সারা দেশে জনগণ আওয়াজ দিয়েছে-যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, তারা দেশ মেরামত করতে পারবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ বিপন্ন, এ সরকার থেকে জনগণ মুক্তি চায়। অবৈধ সংসদ বাতিল করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। বিএনপির দাবির পক্ষে আস্তে আস্তে স্বতঃর্স্ফূত গণজাগরণ হবে-আমরা সেটাই প্রত্যাশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহল বলছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্বও বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দেখতে চায়। আমরা দশ দফা দিয়েছে। এ দশ দফা মেনে সরকার যদি সংলাপ বা আলোচনার আহবান করে, নিশ্চয় আমরা যাব। এটা দশ দফার ওপর এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’।