চট্টগ্রামে ৫০০ অস্ত্র লুট, পুড়েছে ৪৫টি যানবাহন: পুলিশ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয় উল্লাসের দিন গত ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ১৬টি থানার মধ্যে ৮টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুন দেওয়া হয়। এ দিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান।

এ সব ঘটনায় পুলিশের থানা ভবনের পাশাপাশি অন্তত ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন থানা থেকে অন্তত ৫০০ অস্ত্র এবং ১২ হাজারেরও বেশি গুলি লুট করা হয়। অস্ত্র, গুলি যাবাহন ছাড়াও থানা ভবনের অবকাঠামো পুড়ে অন্তত ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন থানা ও নগর পুলিশের সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি থানায় আগুন দেওয়া এবং লুটপাট করা হয়। পাহাড়তলী থানা, ইপিজেড থানা, পতেঙ্গা থানা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব থানা চত্বরে থাকা সব যানবাহন পুড়ে যায়। কোতোয়ালি থানা পুরোটা পুড়ে না গেলেও থানার বাইরে থাকা একটি এপিসিসহ সব যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলোর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী থানায় অবকাঠামোগত ক্ষতি ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার। ইপিজেড থানার ক্ষতি ৭০ লাখ টাকা, পতেঙ্গায় ৮০ লাখ টাকা, হালিশহর থানার ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ডবলমুরিং থানা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, চান্দগাঁও থানা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, বন্দর থানার ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সদরঘাট থানার ৮০ লাখ এবং আকবর শাহ থানার ৭০ লাখ টাকা। থানার বাইরে ফাঁড়ির মধ্যে পাথরঘাটা ফাঁড়ির ৮০ লাখ টাকা, সদরঘাট ফাঁড়ি ১ কোটি টাকা, ইপিজেড ফাঁড়ি ৭০ লাখ টাকা, উত্তর হালিশহরে ৬০ লাখ টাকা, মোহরায় ৬০ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) এস এম মোস্তাইন হোসেন জানান, সিএমপির থানা এবং ফাঁড়িগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা। এছাড়া আসবাবপত্র, যানবাহনসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান আছে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ সময় ৫০০ অস্ত্র ও ১২ হাজারের বেশি গুলি লুট হয়। এর মধ্যে ৩৫টি অস্ত্র ও ২৭৫টি গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জনগণকে সেবা দিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। মহানগরীর ১৬ থানার প্রতিটিতে এখন কার্যক্রম চলছে। যেসব থানা সম্পুর্ণ পুড়ে গেছে, সেগুলোর কার্যক্রম পাশের ফাঁড়ি অথবা ভিন্ন বাড়িতে চলছে।