বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাল রাশিয়া
জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকায়
যুদ্ধ বন্ধ ও ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রাশিয়া।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে অবস্থিত রাশিয়া দূতাবাস এক টুইটবার্তায় বাংলাদেশকে এ ধন্যবাদ জানান। জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়ার বরাতে টুইটবার্তায় বলা হয়, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রুশবিরোধী প্রস্তাব উত্থাপন করে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান সম্ভব নয়। ভোটদানে বিরত থাকায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যাশা, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ পশ্চিমাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এমন প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেনশান’ ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। আর এরপর এক টুইট বার্তায় রাশিয়া দূতাবাস বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ৩২টি দেশ ‘অ্যাবস্টেনশান ভোট দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্বিতীয় বছরে গড়ানোর প্রাক্কালে গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে উত্থাপিত প্রস্তাবটির মূল বার্তা ছিল রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ইউক্রেন ছেড়ে যেতে হবে। ১৪১-৭ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। রাশিয়া, বেলারুশ, সিরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি, ইরিত্রিয়া ও উত্তর কোরিয়া ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে রাশিয়ার মিত্র চীন প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘অ্যাবস্টেনশান’ ভোট দিয়েছে। ভেনিজুয়েলাসহ ১১টি দেশ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি।
মিয়ানমার ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কারণ জাতিসংঘে মিয়ানমারের আসনটিতে জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন। মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জাতিসংঘে রাশিয়াকে দায়ী করে যে প্রস্তাবগুলো উঠেছে তাতে সমর্থন করেনি বাংলাদেশ। মানবিক সহায়তাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলনামূলক গঠনমূলক একটি প্রস্তাব সমর্থন করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। এ ছাড়া বরাবরই ‘অ্যাবস্টেনশান’ ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আছে। চীন, রাশিয়ার সঙ্গেও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক। বাংলাদেশ কারো বলয়ে যেতে চায় না। এ নীতিও এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।