সাতকানিয়ায়  যুবলীগনেতার বাড়িতে ভাংচুর ও গুলির অভিযোগ 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃত্ব ধরে রাখা,এবং ঈদুল আযহার নামাজ দেরীতে পড়া  নিয়ে কথা বলায় প্রতিপক্ষ কর্তৃক হামলার শিকার হয়েছে এক যুবলীগনেতা এবং ভাংচুর করা হয়েছে বাড়িঘর ও বসত বাড়িতে ঢুকতে দরজায় গুলি করার অভিযোগ ওঠেছে।  আজ ২২শে জুন (শনিবার)সকালে গণমাধ্যমে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো:নাছির। তিনি জানান,সমাজের পক্ষে গত  সপ্তাহে ঈদুল আযহার নামাজ কেন নির্ধারিত সময়ে পড়া হবেনা,সেটার কারণ জানতেন  চেয়েছি,এরপর বিষয়টা এতটুকুতেই শেষ, কারো সাথে কারো মনোমালিন্য হয়নি। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বিকালে আমি বাড়িতে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি হঠাৎ অতর্কিত ভাবে এওচিয়ার ৪নং ওয়ার্ডের ফজু সওদাগর বাড়ির মো:কামালের নেতৃত্বে টুটুল,জাবেদ ও  জায়েদসহ বিভিন্ন বয়সের ৩০জন অস্ত্রধারী লোক গাছের লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাড়ির চারপাশে কাঁচের গ্লাসও দরজা ভাংচুর করেন।
পরে এক পর্যায়ে আমার হত্যা করার উদ্দ্যেশ্যে দরজায় এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এসময় তিনি কয়েকটা গুলি করার দরজা ও দেয়ালের ক্ষত চিহ্ন দেখান প্রতিবেদককে।
এদিকে নাছিরদের এলাকার কয়েকজন মহিলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান,টুটুলের নেতৃত্বে ২০/৩০জন ছেলেপেলে আসছিল নাসিরের বাড়িতে এসময় বেশ কয়েকটি গুলির বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়েছি আমরা।
তবে কেন এই হামলা করতে এসেছে তারা তা আমি জানিন। অপরদিকে এই হামলার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত ফজু সওদাগরের বাড়ির মো:কামাল হোসেন। তিনি বলেন,আমার বাড়ির কয়েকজন ছেলেপেলে তার বাড়িতে গেলে ওখানে বড় ধরনের ঘটনা না ঘটার জন্য আমি একাকী ভাবে ওখানে যায়,পরে শুনছি আমাদের মামলা মোকদ্দমায় দেয়ার জন্য তারা নিজেরাই গুলি করেন এবং কিছু কাঁচ ভাংচুর করেন। এদিকে ঘটনার ৩০মিনিট পর আবার মঞ্জুরসহ নাছির আমাদের এলাকায় ঢুকার চেষ্টা করলে সেটা আমরা প্রতিহত করি, ওইসময় নাছিরের সাথে বেশ কিছু অস্ত্রধারী লোকও ছিল।
অপরদিকে নাছিরের বাড়িতে হামলা করার কথা অস্বীকার করলেও বাড়িতে  যাওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন মো:কামাল। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন নাসিরের বাড়িতে হামলার পরপরই আরেকদফা সংঘর্ষে রূপ নেয় দেওদীঘিতে।  তবে ঘটনাস্থলে সাতকানিয়া থানার এসআই আব্দুর রব ও এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছালেহ উপস্থিত হওয়ায় বড় কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এই বিষয়ে সাতকানিয়া থানার এসআই আব্দুর রব বলেন,বহুদিন ধরে যুবলীগনেতা নাসির আর স্থানীয় কামালের মধ্যে স্নায়ু দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো,তবে এখন যে ঘটনাটি হয়েছে সেটা গত সপ্তাহের ঈদুল আযহার নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে।  তবে নাছিরের বাড়িতে কামালের লোকজন যাওয়ার বিষয়টা সত্য।
অপরদিকে এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছালেহ বলেন,মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের শুধু সেটা নয় তাদের মধ্যে কিছু জমিজমার বিরোধও আছে তবে সেটা যুবলীগনেতা নাছিরের সাথে নয়। নাছির শুধু মসজিদে কেন ঈদের  নামাজ নির্ধারিত সময়ে না হয়ে  দেরীতে করে পড়ানো হচ্ছে সেটা বলেছিল।  চেয়ারম্যান আবু ছালেহ বলেন, এই মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব হবে আইনগত ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কারণ এটা দেওদীঘি কে এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদ,নাম হচ্ছে দেওদীঘি খাসমহাল জামে মসজিদ।  অথচ! এই মসজিদ পরিচালনার বিষয়ে অনেক দ্বন্দ্ব শোনা যায়।তাই আমি উভয় পক্ষকে ডেকেছি মসজিদ কারো একক হতে পারেনা। এবং পূর্বের সকল বিরোধও মিমাংসার চেষ্টা করা হবে। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দেওদীঘি সেন্টারে কোন পক্ষকে ঝামেলা সৃষ্টি হতে দিবনা।
সাতকানিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, বিষয়টা শোনা মাত্র আমি পুলিশ পাঠিয়েছি।তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে এওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জসীম উদদীন বলেন, মসজিদ পরিচালনায় কারো নাক না ঢুকাতে যুবলীগনেতা মো:নাসিরের  বসতবাড়ির উপর এই হামলা করা হয়েছে।