প্রচন্ড ঠান্ডায় ব্যাহত উদ্ধারকাজ প্রাণহানি ছাড়ালো ২১ হাজার

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প

প্রচন্ড ঠান্ডার সঙ্গে বাতাস, কখনও আবার বৃষ্টি- এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় তুরস্ক-সিরিয়ায় গত সোমবার ৭ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। চারদিনে অনেককে জীবিত বের করে আনা গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষীণ হয়ে আসছে।  বেশিরভাগই উদ্ধার হচ্ছে লাশ।  শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫১ জনে।  এরমধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, দুর্যোগের পূর্ণ মাত্রা এখনও অস্পষ্ট।

৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের ১০০ ঘণ্টা পার হলো।  প্রাণের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।  বৈরী আবহাওয়া আর খাবার বা পানি ছাড়া ধ্বংসস্তূপে এতক্ষণ টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।  তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই ভূমিকম্পকে ‘শতাব্দীর বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন।  দ্ধার তৎপরতায় কিছুটা ধীরগতির কথা নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন।
অনেক দেশ থেকে আসছে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল।  দেশটির মৌলিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তুরস্ককে তাৎক্ষণিক একশ’ ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এদিকে জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ মাত্রা এখন আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে।  বিশেষ করে সিরিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ দেশটিকে ধ্বংস করেছে।  সেখানেও ভূমিকম্পের তান্ডব লেগেছে।  বৃহস্পতিবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম মানবিক সহায়তা আসে। বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিবের বাব আল-হাওয়া ক্রসিং দিয়ে জাতিসংঘের সহায়তা পৌঁছায়।

১৯৯৯ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাতে ১৭ হাজার মানুষ মারা যায়।  এবারের ভূমিকম্প আগের পরিসংখ্যানকেও ইতোমধ্যে ছাপিয়ে গেছে।  মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলেছে, সোমবার তুরস্কে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর অন্ততঃ ১০০টি আফটার শক হয়।