৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার,ভাইরাল হওয়া ‘মরিয়ম ও ইলাফ’
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ছোট ভাইয়ের মাথায় পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দেয় মরিয়ম
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরিয়ম ও ইলাফ নামে দুই শিশুকে ৩৬ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) তাদের উদ্ধার করা হয়। বুধবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার হারামের বেসনায়া নামের ছোট্ট গ্রামে তাদের বাড়ি। ভূমিকম্পের সময় নিজ বাড়িতে শিশু দু’টি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। মঙ্গলবার রাতে ভাইরাল হওয়া এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে তুরস্ক-সিরিয়ায় ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের চেয়েও বড় ঝাঁকুনি দিয়েছিল বিশ্ব মানবতাকে।

ওই ভিডিওতেই দুই ভাইবোনের টানা ৩৬ ঘণ্টা টিকে থাকার লড়াইয়ের খণ্ড চিত্র দেখেছে বিশ্ব। বিপদে বড় বোন মা হয়। গুরুজনদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো এ অমিয় বাণীর এবার জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি দেখল সারা দুনিয়া। কতটুকই বা বড় সে? কতই বা বয়স মরিয়মের? কিন্তু কত দৃঢ়ভাবে ধরেছে দায়িত্বের হাল? ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ছোট ভাইয়ের মাথায় পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে বড় বোন মরিয়ম। ধ্বংসস্তূপের আবর্জনা যেন ভাইয়ের মুখে না লাগে এ জন্য তার হাত দিয়ে ছোট ভাইয়ের মুখ ঢেকে রাখছে। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও ৩৬ ঘণ্টার মাথায় উদ্ধারকারীদের শব্দ পায় মরিয়ম। শীতে শুকনো খসখসে ঠোঁটেই শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে শেষবারের মতো আকুতি জানায়- ‘আমাকে এখান থেকে বের করুন। আপনার জন্য সবকিছু করব।’
পরক্ষণেই আবার, ‘স্যার আমাকে বাঁচান। সারা জীবন আপনার গোলাম হয়ে থাকব। শিশুটির এ করুণ আর্তনাদ কানে পৌঁছতেই ছুটে আসে উদ্ধারকারী দল। তারপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। একে একে উদ্ধার করা হয় পুরো পরিবারকে। ভিডিওতে দেখা যায়, মরিয়ম ও ইলাফকে উদ্ধারের পর লোকজন তাদের কম্বলে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শিশু দুটির বাবা মোস্তফা জহির আল সাঈদ বলেন, সোমবার ভূমিকম্পের আগে তিনি তার স্ত্রীসহ সন্তানদের নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। তখনই তিনি অনুভব করেন মাটি কাঁপছে আর তাদের ভবন ধসে পড়ছে মাথার উপর। ধ্বংসস্তূপের নিচে তারা দুদিন আটকে ছিলেন বলে জানান তিনি।
শিশু দু’টির বাবা মুস্তফা জুহির আল-সায়েদ জানান, সোমবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় তার স্ত্রী ও তিন সন্তান ঘুমিয়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করি, ভবন ভেঙে আমাদের মাথার ওপর পড়ে। দুই দিন আমরা ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ছিলাম। এমন এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে আমরা এসেছি, যা অন্য কাউকে বোঝাতে পারবো না।’
মুস্তফা জুহির জানান, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে তার পরিবার কোরআন পাঠ করছিল এবং জোরে জোরে প্রার্থনা করছিল যাতে কেউ তাদের খুঁজে পায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে ভাইকে ৩৬ ঘণ্টা আগলে রাখে মরিয়ম
তিনি বলেন, ‘লোকজন আমাদের খুঁজে পেয়ে আমার স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার করেছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, আমরা সবাই বেঁচে আছি। যারা উদ্ধার করেছেন তাদের ধন্যবাদ।’
প্রসঙ্গত, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্ক ও সিরিয়াতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এই দুই দেশ। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। এসব মানুষের বেশির ভাগই ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
##