তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় বাইডেন-শির শোকবার্তা

তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।  সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ জন।  এখনও চলছে উদ্ধার কাজ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। শি জিনপিং বলেছেন, তিনি এতো বেশি মানুষ হতাহতের বিষয়ে জানতে পেরে মর্মাহত। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে, চীনের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি জানিয়েছে, তারা তুরস্ক ও সিরিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং প্রয়োজনীয় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন। এসময় তিনি নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন।

পরে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাইডেন ‘এই ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়ায় আমাদের ন্যাটো মিত্র তুর্কিকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতির বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।’

বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধারকারী দল রাতভর অভিযান চালিয়েছে। গোটা বিশ্ব যখান যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট ও গভীর অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত তখন আরও একটি মানবিক বিপর্যয় দেখছে।

সোমবার ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল ও সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৪০ সেকেন্ড ধরে চলা এ ভূমিকম্পের কম্পন পৌঁছায় লেবানন ও সাইপ্রাসেও। ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনগুলোতে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েছে। কর্মীরা ধ্বসংস্তূপের মধ্য থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপড়তা জোড়ালো করেছে। ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে তুরস্কের অন্তত ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শহর দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

১৯৯৯ সালের পর এটাই তুরস্কে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই বছরের আগস্টে সাত দশমিক ছয় মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল মারমারায় আঘাত হানে। ১৯৯৯ সালের ভূমিকম্পে দেশটিতে সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ নিহত হয়।