চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দুই বারের চেয়ারম্যান হ্যাট্রিক মিশনে থাকা দোয়াত কলম প্রতীকে তৌহিদুল হক চৌধুরীকে পরাজিত করে অভিষেক হয়েছেন আনারস প্রতীকের সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হকের। তিনি অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন।
দেখা যাচ্ছে আনোয়ারা উপজেলায় গত দুই বারের উপজেলা নির্বাচন অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন হলেও নানা কারণে এবারে আনোয়ারায় নির্বাচনে হাড্ডা হাড্ডি দ্বিমুখী লড়াইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও বর্তমান অর্থপ্রতিমন্ত্রী বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান এমপির প্রেস্টিজ ইস্যু নির্বাচনে জাবেদ সমর্থিত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। দুই এমপির মুখোমুখি অবস্থানের ফলে দিনভর চোখ ছিল এই উপজেলার ভোটের ফলাফলের দিকে।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কাজী মোজাম্মেল হক আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৮৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৌহিদুল হক চৌধুরী (দোয়াত কলম প্রতীক) পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮০৭ ভোট। দুই জনের ভোটের ব্যবধান ২২ হাজার ২৩। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে তৌহিদুল হক চৌধুরীকে সমর্থন করে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরী পেয়েছেন ৩৩০ ভোট। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মন্নান মান্না (চশমা প্রতীক) ৩১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আবু জাফর (টিয়া পাখি প্রতীক) ৩০ হাজার ৪৩৭ ভোট। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার (তালা প্রতীক) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৭১ ভোট, যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন (টিউব ওয়েল প্রতীক) পেয়েছেন ৬ হাজার ৬১৮ ভোট। সন্তোষ কুমার দে (বই প্রতীক) পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। আর প্রীপ দত্ত (মাইক প্রতীক) পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪৮ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তরুণী প্রার্থী অ্যাডভোকেট চুমকি চৌধুরী (হাঁস প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯৪০ ভোট। তার পারভীন আকতার (কলস) পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮২ ভোট, আর মরিয়ম বেগম (ফুটবল) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৪৮০ ভোট।
নির্বাচিত হওয়ার পর মোজাম্মেল হক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই জয় আনোয়ারাবাসীর। এই জয় আমি আনোয়ারাবাসীকে উৎসর্গ করলাম। নির্বাচনে আমাকে সমর্থন দেওয়ায় অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।