আনোয়ারায় ছাত্রীকে যৌনহয়রানির অভিযোগ, শিক্ষককে পুলিশে দিল জনতা

শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু সেই শিক্ষকই যদি রক্ষক সেজে বক্ষক হয় তাহলে বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়? তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ডুমুরিয়া রুদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য কে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন অভিবাবক ও স্থানীয়রা।

সোমবার (২০ মে) বেলা ১২টার দিকে স্কুলে স্থানীয়দের তোপের মুখ থেকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার ১১নং পরৈকোড়া ইউনিয়নের পাঠানিকোটা গ্রামের অধীর ভট্টাচার্যের ছেলে। এ ঘটনায় ভোক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য (৫৪) বিভিন্ন সময় ধূমপান করে ক্লাসে প্রবেশ করে ভোক্তভোগী ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মুখে ধোয়া ছাড়াসহ শিক্ষার্থীটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গা হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করে। এসব ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক গত ১৫ মে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় সকালে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় বিচার দাবি করে স্কুলটি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে জুতার মালা পড়িয়ে দিতে চায়। এসময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসে।

ভুক্তভোগীর ছাত্রীর মা জানান, সহকারী শিক্ষক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আমার মেয়েকে যৌন হয়রানি করেন। এতে সে স্কুলে যেতে ভয় ও অনীহা প্রকাশ করে। পরে যৌন হয়রানির বিষয়টি মেয়ে আমাদের জানালে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমি কিছু জানিনা । আজ হঠাৎ তারা এসে আমাকে মারধর করে। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তা সমাধান করতাম।

গত ১৫ তারিখ অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে গত ১৫ মে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। পরে বিষয়টি তদন্ত করতে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত করতে দেরি হয়। আজ েেক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল আহমেদ জানান, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।