আওয়ামী লীগকে খোঁচা দিলে জ্বলে উঠে: হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগকে খোঁচা দিলে জ্বলে উঠে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।  দেশের আট বিভাগীয় শহরে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মূল উদ্দেশ্য দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।  আওয়ামী লীগ রাজপথের দল।  আওয়ামী লীগকে খোঁচা দিলে জ্বলে উঠে। তারা আমাদের খোঁচা দিয়েছে। তাই আমরা জ্বলে উঠেছি। আগামী নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনা ছাড়া আমরা আর ঘরে ফিরে যাবো না।’

শনিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি এখন একটু লাইনে এসেছে।  মির্জা ফখরুল সাহেব জেলে যাওয়ার আগে বলেছেন, সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো।  আওয়ামী লীগের ভিত বহু গভীরে প্রোথিত।  আওয়ামী লীগকে কেউ ধাক্কা দিলে সে নিজে পড়ে যায়। সুতরাং তারা ধাক্কা দিতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙ্গে গেছে।  মির্জা ফখরুল সাহেব জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর বলছেন, আমরা কাউকে ধাক্কা দিতে চাই না।  আসলে ধাক্কা দিতে চেয়েছিলেন।  গিয়ে যখন পড়ে গেছেন, এখন বলছেন, আমরা আর কাউকে ধাক্কা দিতে চায় না।  আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করতে চাই।’

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহবান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি পূর্ণশক্তি নিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।  আসন পেয়েছিল ২৯টি।  ২০০৮ সালের নির্বাচনে ডান, বাম, অতিবাম, অতিডান, তালেবান..সবাইকে নিয়ে ঐক্য করেছিল।  কিন্তু তারা মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছিল।  তাই তারা বুঝতে পেরেছে, আগামী নির্বাচনে জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি এখন নানা বাহানা করছে।  একবার বলে তত্ত্ববধায়ক সরকার, আরেকবার বলে জাতীয় সরকার।  দুনিয়ার কোথাও এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।  আছে একমাত্র পাকিস্তানে।  আমাদের দেশে তারা পাকিস্তানকে অনুকরণ করতে পারে, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে অনুকরণ করে না।  পাকিস্তান আমাদেরকে অনুকরণ করে।  বাংলাদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী।  একাত্তরের পরাজিত শক্তি আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলতে পারবে না। আগামী নির্বাচনেও আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হবো।’

সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে সুসংগঠিত হতে হবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।  যাতে আবারও আমরা নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে পারি।’

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘বিএনপির পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে।  তারা পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে এখন নুর আহমদ সড়কে এসে মিটিং করছে।’

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের এই সমাবেশে নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ চৌধুরী হাসনী। বিকেল সোয়া চারটার দিকে বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীদের যখন মিছিল আসছিলো তখন সভা পরিচালনার সময় তিনি বলেন, ‘থানা-ওয়ার্ড থেকে যে পরিমাণ নেতাকর্মী আসার কথা ছিল তা আসেনি। এটা উচিত হয়নি।’