দেশে এখনো ব্রিটিশ আমলের অনেক রেললাইন রয়েছে যেগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো না। গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এসব রেললাইন বেঁকে যেতে পারে, রেলের ভাষায় যাকে বলা হয় বাকলিং। তাই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনে ট্রেনের গতি কমিয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থান ও রেললাইনের বয়স বিবেচনায় সারাদেশে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি স্ট্যান্ডিং অর্ডার বা স্থায়ী আদেশ হিসেবে বিবেচনা করে রেল। কারণ প্রতিবছরই গরমের সময় এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে রেল কর্তৃপক্ষ। মূলত বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গতি কমানো হয়। কারণ এ সময়টাতেই রেললাইন বেশি গরম হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন বেশি যেখানে লাইন বেঁকে যাওয়ার শঙ্কা সর্বাধিক। গত বছরের মে মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় প্রায় ৭০০ মিটার রেললাইন একাধিকবার আংশিক বেঁকে গিয়েছিল অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে। এদিকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। আর ৫০-এর নিচে হলে রেললাইন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আবহওয়া অফিস যে তাপমাত্রা জানায়, রেললাইন এরচেয়ে ৮-১০ ডিগ্রি বেশি গরম হয়। এ ছাড়া যেখানে কাঠের স্লিপার আছে, সেসব লাইনও ঝুঁকিপূর্ণ। গত দুদিন পূর্বাঞ্চলের রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের তাপমাত্রা ৪৮ থেকে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে নতুন রেললাইন তৈরি হচ্ছে। তবে তার পরিমাণও কম। ব্রডগেজ রেললাইনে প্রতি মিটারে ৯০ পাউন্ড এবং মিটারগেজ লাইনে প্রতি মিটারে ৭৫ পাউন্ড ওজন থাকার কথা। কিন্তু বিদ্যমান লাইনে এমন ওজন থাকছে কি না সেটি দেখার বিষয়। এমন কারণেও রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে রেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানের নতুন রেললাইনে প্রতি মিটারে ৬০ কেজি ওজন থাকছে। এতে করে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, স্থানভেদে গতি কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেললাইনের ওপর ৪৫ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহনীয় হিসেবে ধরা হয়। এর বেশি গরম হলে রেললাইন বেঁকে গিয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গতি কমানোর পাশাপাশি আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গতি কমানো হয়েছে শুধু দিনের বেলায়, যখন তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ ছাড়া রেললাইন প্যাট্রলিং করা হচ্ছে। মিটার দিয়ে রেললাইনের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায়। রেললাইনের তাপমাত্রা বাড়লে ভেজা চটের বস্তা ও পানি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলের পূর্বাঞ্চলসহ (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) লালমনিরহাট অঞ্চলে মিটারগেজ রেললাইন। এসব লাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে। আর পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের একাংশ) ব্রডগেজ রেললাইন। এসব স্থানে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে। মালবাহী ও লোকাল ট্রেনগুলোর গতি কম থাকে। আর আন্তঃনগর ট্রেন বেশি গতিতে চলে।