হাত জাল নিয়ে পুকুরে নেমে পড়েন একই রঙের গেঞ্জি পরিহিত অর্ধশতাধিক পুরুষ। বাশের ভেলায় দাড়িয়ে কেউ জাল ছুড়ছেন, আবার কেউ মাছসহ জাল টেনে তুলছেন। কেউ পেশাদার মাছ শিকারী না হলেও সবার জালে উঠেছিল নানা প্রজাতির মাছ। বস্তাভর্তি মাছ নিয়ে ঘরে ফিরেন হাসিমুখে। উৎসবে মেতে ওঠা মানুষের চায়ের তৃষ্ণা মেঠাতে পুকুর পাড়ে ছিল টং দোকানও। পুকুরের চারপাড়ে নানা-বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহমান গ্রামবাংলার চিরাচরিত উৎসবের মধ্যে ব্যতিক্রমী উৎসব হচ্ছে হাত জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসব।
শনিবার (১৩ এপ্রিল) মোয়াজ্জেম বাড়ি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত এ উৎসবে মেতে উঠেন রাউজানের ঐতিহ্যবাহী কাজী মোয়াজ্জেম বাড়ীর নারী-পুরুষেরা। কাজী মোয়াজ্জেম বাড়ির সার্বিক উন্নয়নে রাউজান থেকে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করেন মোয়াজ্জেম বাড়ি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ।
ঈদ আনন্দের সাথে মাছ ধরা উৎসব যোগ হয়ে আনন্দের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুন। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হাত জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসবে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পাওয়া উৎফুল্ল ছিলেন সবাই। মাছ ধরা উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।
হাত জাল দিয়ে মাছ ধরা কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমরান কাজী, সাধারণ সম্পাদক কে এম গুলজার হোসেন, উপদেষ্টা তৈয়ব মিয়া, শাহাদাত হোসেন, কাজী জামাল, মনজুরুল ইসলাম, ডাক্তার শফিউর নাহার, কাজী এজাজ, কাজী শওকত, কাজী কামাল, কাজি টিপু, কাজী জাকারিয়া, কাজী তানসেন, বেলাল হারুন, নুরুল মোস্তাফা, কাজী ফারহিম, কে এম আবদুল্লাহ আল মতিন, কাজী মাসুদ রানা, কাজী জয়নাল, কাজী মাহিন, কাজী তপু, কাজী বাবু, কাজী জসিম, কাজী সাব্বির, কাজি জুলফিকার। এছাড়া কাজী বাড়ির নানা বয়সী লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
কাজী মোয়াজ্জেম বাড়ির তোরণে মোয়াজ্জেম বাড়ি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের লাগানো প্রফেসর কাজী সাইফ রহমানের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বাংলার মোগল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ ১৯৬৬ সালে আরকান সম্রাজ্যের বিশাল অংশসহ চট্টগ্রাম দখল করেছিল। চট্টগ্রাম তথা ইসলামাবাদের মোগল শাসক নবাব বুজর্গ উমেদ খান ছিলেন বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানের জ্যেষ্ঠপুত্র। তার প্রশাসনিক কেন্দ্রের প্রধান পরিচালক ও সেনা প্রধান ছিলেন সাহসী সেনা মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন। তার দাপ্তরিক পদবী ছিল কাজী বা বিচারক। পরবর্তীকালে তিনি কাজী মোয়াজ্জেম হিসেবে সমধিক পরিচিতি পান। কাজী মোয়াজ্জেম এর বংশধরগণ ইসলাম প্রচার ও জনহিতকর কাজে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় কাজী মোয়াজ্জেম এর বংশধর কাজী সানাউল্লাহ ও কাজী আহছান উল্লাহ বর্তমান মোয়াজ্জেম বাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করে কাজী মোয়াজ্জেম বাড়ির গোড়াপত্তন করেন।