আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪–২৬ মেয়াদের নির্বাচনে চিত্রনায়িকা নিপুণের প্যানেলে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তিনি এক বক্তব্যে বলেন, ‘শিল্পীদের গার্মেন্টসে চাকরি দেয়া হবে। ’ হেলেনার এই বক্তব্যে ভালোভাবে নেননি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
হেলেনা বলেন, ‘আমার গার্মেন্টস কারখানা আছে। সংস্কৃতি অঙ্গনের যাদের চাকরি লাগবে, তাদের আমি চাকরি দিতে পারব। এ জন্য কলি-নিপুণ পরিষদের যে অফার ছিল তা লুফে নিয়েছি। ’ হঠাৎ এই ঘোষণা কৌতুহল সৃষ্টি করেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। তার এই বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন শিল্পীরা।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য জনপ্রিয় অভিনেতা সোহানা সাবা এ নিয়ে ভীষণ বিরক্ত। দীর্ঘ এক ফেসবুক ষ্ট্যাটাস লিখেছেন তিনি এই বিষয়ে।
হেলেনা জাহাঙ্গীরের কথায় অসম্মানবোধ করছেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, গার্মেন্টসে আমাদের যেসব শ্রমজীবী ভাই ও বোনেরা কাজ করেন তাদেরকে আমি কোন ভাবেই ছোট করে বলছি না। তাদেরকে আমি সম্মান করি। তাদের কারণেই আমাদের পুরো দেশের আর্থিক মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এভাবে ফলাও করে একজন শিল্পীকে গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে, সে যে ধরনের ভোট ব্যাংকের কথা বলছে সেটা আমি একজন আর্টিস্ট হিসাবে অসম্ভব অসম্মানিত বোধ করছি!
হেলেনার বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডিপজল বলেন, যিনি গার্মেন্টেসে চাকরি করেন, রিকশা চালান, ব্যবসা করেন, চাকরি করেন.. তার সেখানেই রিজিক। শিল্পীরও অভিনয়ের মাধ্যমে রিজিক আসে। এখানেই তার রিজিক। এটা তার নেশা-পেশা। একজন শিল্পী না খেয়ে থাকলেও সি শিল্পী।
তিনি বলেন, যিনি শিল্পী তিনি অভিনয়ের জন্যই শিল্পী। তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আমি চিনিনা। তিনি কোন সিনেমা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
উল্লেখ্য, অভিযোগ উঠেছে নিয়ম না মেনেই ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণের নেতৃত্বাধীন কমিটি শিল্পী সমিতির সদস্য করেছেন প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জেল ফেরত বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে। সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য একজন শিল্পীর যে যোগ্যতা লাগে (ন্যূনতম পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অবিতর্কিত চরিত্রে অভিনয় করতে হয়) তা তার ছিল না। তারপরও হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সমিতির সদস্য পদ দেয়া হয়েছে।