চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক গোলাম ইয়াজদানীর ওপর হামলার ঘটনায় চার ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার চার জন হলেন– কংকন, সুভাষ ও ফিরোজসহ চার জন। রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘চসিক কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এর আগে চসিকের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে রোববার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চসিকের তালিকাভুক্ত ১০ জন ঠিকাদারকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন– চসিকের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস জে ট্রেডার্সের সাহাব উদ্দিন, শাহ আমানত ট্রেডার্সের কংকন, মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মো. ফেরদৌস, শাহ আমানত ট্রেডার্সের সুভাষ, মেসার্স খান করপোরেশনের হাবিব উল্লাহ খান, মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের নাজিম, মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজের ফিরোজ, ইফতেখার অ্যান্ড ব্রাদার্সের ইউসুফ, জ্যোতি এন্টারপ্রাইজের আশীষ বাবু এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের ফরহাদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার বিকেলে চসিকের বাটালী হিলের অস্থায়ী কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম ইয়াজদানীর ৪১০ নম্বর কক্ষে আসামিরা বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। তারা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এরপর আসামিরা অফিস সহায়ককে ধাক্কা দিয়ে রুমে প্রবেশ করেন। প্রথমে তারা গোলাম ইয়াজদানীর সঙ্গে কথা বলার হঠাৎ কংকন, ফেরদৌস, সুভাষ ও আলমগীর গোলাম ইয়াজদানীর শার্টের কলার ধরে টেনে ঘুসি মারেন। তারা সবাই মিলে তার শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলে ও প্যান্টের বেল্ট খুলে ফেলেন। সাহাবুদ্দিন তার শার্টের ভেতর থেকে রড বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে তিনি হাত দিয়ে আটকান। তারপর সাহাবুদ্দিন রড দিয়ে টেবিলে বাড়ি দিয়ে টেবিলের গ্লাস ভেঙে ফেলেন। অফিসের অন্য স্টাফরা জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়।
চসিকের প্রকল্প কর্মকর্তা গোলাম ইয়াজদানী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী। গত বছরের ১৪ আগস্ট তাকে আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এদিকে ঠিকাদারদের দাবি, চসিকের ৩৭টি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২২টি, একটি প্রতিষ্ঠানকে ৮টি এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে চারটি দরপত্রের জন্য বাছাই করা হয়। অর্থাৎ মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে ৩৪টি কাজ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কাজ কারা পাচ্ছেন তা চূড়ান্ত হয়ে এখনও আমার দফতরে আসেনি। ঠিকাদারদের কোনও অভিযোগ থাকলে কর্মকর্তাদের জানাতে পারতেন। তারা ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যা ঘটিয়েছেন তা উচিত হয়নি।’